ভদ্রাসন বা গোরক্ষাসন
প্রণালী
একটি কম্বল বা নরম বিছানায় বসুন। পায়ের পাতা দুটি জোড়া করে যুক্ত পায়ের অগ্রভাগ সামনে রাখুন এবং হাত দেহের পিছনে দু'পাশের কম্বল বা বিছানায় রাখুন।
এইবার দু'হাতের উপর ভর দিয়ে দেহ অল্প উপরে তুলুন এবং যুক্ত পা দুটি আস্তে আস্তে অণ্ডকোষের নিচে এনে সংযুক্ত গোড়ালি দুটি সীবনীর (মলদ্বার ও অন্ডকোষদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত নাড়ী) দু'পাশে রাখুন।
এখন কম্বল থেকে ক্রমান্বয়ে প্রথমে ডান হাত তুলে ডান হাঁটুতে চাপ দিয়ে এবং পরে বাঁ হাত তুলে বাঁ হাঁটুতে চাপ দিয়ে হাঁটু দুটি কম্বলে সংলগ্ন করুন এবং ১৯ নং ছবির মত সমকায় শিরোগ্রীবা (দেহ ও মাথা সামনে একটু হেলে পড়া সত্ত্বেও মেরুদণ্ড সোজা করে) হয়ে বসুন।
হাঁটুতে চাপ দেওয়ার সময় পায়ে যাতে ব্যথা না লাগে সেদিকে দৃষ্টি রাখুন। পায়ের পেশী ও স্নায়ুগুলি সম্পূর্ণ শিথিল করে দিন।
এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থেকে, হাত পা ছড়িয়ে দিন।
এই আসন প্রথম সপ্তাহে ৩০ সেকেন্ড করে ৮ বার, ২য় সপ্তাহে ৩০ সেকেন্ড করে ৬ বার এবং ৩য় সপ্তাহে ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করতে হবে।
এটি অভ্যাসকালে স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হয়।
উপকারিতা
নিয়মিত অভ্যাস করলে স্বপ্নদোষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং বীর্যধারণ সহজ হয়। এই আসন-এর উপকারিতা বুঝতে হলে একটু বিশদভাবে আলোচনা করা দরকার।
অণ্ডকোষের মধ্যে শুক্র তৈরী হয়ে শুক্রবাহী নালী দিয়ে লিঙ্গমূলে নীত হয়। অণ্ডকোষ, গুহ্যদ্বার, সীবনী ও লিঙ্গ মূলের চারপার্শ্বে বহু স্নায়ু ও শিরা আছে।
এদের মধ্যে ঠিকমত রক্ত চলাচল না হলে এরা ভালভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে কামাবেগ, ও স্বপ্নদোষ ইত্যাদি দেখা দেয়।
ভদ্রাসন অভ্যাসে এদের চারিদিকে স্নায়ু ও শিরাগুলির মধ্যে প্রচুর রক্ত চলাচল হওয়ায় এরা সবল ও কর্মক্ষম হয়। ফলে বীর্যধারণ সম্ভব হয় এবং শীঘ্রপতন ও স্বপ্নদোষের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
এই আসন অভ্যাসে মেয়েদের বস্তি ও হাঁটুর স্নায়ুমণ্ডলী বিশেষ প্রসারিত হওয়ায় সবল হয়। ফলে তাদের সন্তান প্রসবকালে বিশেষ কষ্ট পেতে হয় না।
এই আসনকে গোরক্ষাসনও বলা হয়ে থাকে।
