গোমুখাসন
এই আসন-এ অবস্থানকালে অভ্যাসকারীর পায়ের অবস্থান গরুর মুখের মত হয়, তাই মনে হয় এই আসনের নাম গোমুখাসন।
প্রণালী
পা দু'টি সামনে ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এবার বাঁ পা হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে ডান পায়ের নিচে বাঁ পা এনে বা গোড়ালি দিয়ে ডান পাছা স্পর্শ করুন।
এখন ডান পা হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে বাঁ পায়ের উপর দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালি দিয়ে বাঁ পাছা স্পর্শ করে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন।
এই বার ডান হাত মাথার উপর তুলে কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে পিঠে নামান এবং বাঁ হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে ডান দিকে ঘুরিয়ে ডান হাতের আঙ্গুল ধরুন। ১৭ নম্বর ছবি দেখুন এবং ৩০ সেকেন্ড এইভাবে থাকুন।
পরে পা ও হাত বদলে অর্থাৎ ডান পা নিচে ও বাঁ পা উপরে হাঁটুর উপর হাঁটু রেখে এবং গোড়ালি দিয়ে বিপরীত পাছা স্পর্শ করে বাঁ হাত কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে পিঠে নামান এবং ডান হাত বাঁ দিকে বেঁকিয়ে বাঁ হাতের আঙুল ধ'রে পূর্বের মত মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন।
১৮ নম্বর ছবিতে এই আসন অভ্যাসকালে পিছন দিক দিয়ে দু হাত কিভাবে ধরতে হবে তা দেখানো হয়েছে।
এইভাবে পা বদল করে প্রতি পায়ে ৩ বার করে দু’পায়ে ৬ বার অভ্যাস করুন।
অভ্যাসকালে যখন যে পা উপরে থাকবে, তখন সে হাত উপরে থাকবে এবং যে পা নিচে থাকবে, সেই হাতের চেটো ১৮ নম্বর ছবির মত বাইরে দিকে থাকবে।
উপকারিতা
এই আসন পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্সম্নিয়া) দুর করে এবং কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে।
মনে কুচিন্তা বা কুভাবনা উদয়কালে এই আসন অবলম্বনে সাময়িক উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং উত্তেজনাজনিত ক্ষয়-ক্ষতি অনেকটা নিবারিত হয়।
যাদের রাত্রে ঘুম হয় না, বা স্বপ্নদোষ হয়, তারা রাত্রে শোয়ার আগে এই আসনটি কয়েকবার অভ্যাস করে শয্যা আশ্রয় করলে বিশেষ ফল পাবে।
