প্রত্যেক ব্যায়াম শিক্ষার্থীর ব্যায়াম শুরু করার আগে দেহের ওজন, উচ্চতা ও বিভিন্ন মাংসপেশির মাপ নেওয়া উচিত এবং নিচের ছবির মতো দৈহিক মাপের তালিকার অনুরূপ তালিকায় লিখে রাখা প্রয়োজন।

ব্যায়াম শুরু করার একমাস পরে এবং তারপর প্রতি তিন মাস পর পর আবার দেহের ওজন, উচ্চতা মাংসপেশির মাপ নিয়ে তালিকাবদ্ধ করলে সহজে তুলনামূলক পরিবর্তন বোঝা যাবে যে ব্যায়ামে কেমন উন্নতি হলো।

মাপ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যতটা খালি গায়ে সম্ভব একটি ছবি তুলে রাখলে দৈহিক উন্নতি আরও সহজে বোঝা যায়। এই ভাবে ছবি ও মাপের তালিকার সাহায্যে ব্যায়ামকারী যদি দেখতে পায় যে তার দেহের উন্নতি হচ্ছে, তাহলে তার ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে।



অনেক ব্যায়ামকারীর মাপ নেওয়ার একটা বাতিক আছে—প্রতি মাসে কেন, প্রতি সপ্তাহে মাপ না নিলে তারা স্বস্তি পায় না। এটা ঠিক না। এতে কোন ফল পাওয়া যায় না।


যেদিন মানসিক অবস্থা একটু খারাপ থাকে বা শরীর একটু অসুস্থ মনে হয়, সেইদিন মাপ নেওয়া একেবারেই উচিত নয়।


৫ নম্বর ছবির সাহায্যে কীভাবে মাপ নিতে হয় তা দেখানো হয়েছে। ব্যায়ামকারীর সুবিধার জন্য এই সম্পর্কে আরও বিশদভাবে আলোচনা করা হলো-


১. গলা ছবিতে যেমন দেওয়া আছে।


২. বাহু (স্বাভাবিক)—– ছবির মত হাত স্বাভাবিক ঝুলিয়ে।


৩. বাহু (সঙ্কুচিত)—–ছবির মতো হাত কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে হাতের মুঠো কাঁধের কাছে এনে উপর হাতের পেশি সঙ্কুচিত করা অবস্থায়।


৪. কোমর ছবির মত ঠিক নাভির উপর দিয়ে কোমরের চার পাশে।


৫. পুরো বাহু ছবির মতো কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত নিচের হাতের সবচেয়ে মোটা জায়গা।


৬. কব্জি —ছবিতে প্রদত্ত স্থানে, ছবিতে কব্জির কাছে হাতের চেটো ভিতরে বাঁকানো রয়েছে, কিন্তু মাপ নেওয়ার সময় কব্জির কাছ থেকে হাতের চেটো সোজা রাখতে হবে।


৭. হাঁটু—ছবিতে যেমন দেওয়া আছে।


৮. পায়ের গুলি—ছবির মত হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত নিচের পায়ের সবচেয়ে মোটা জায়গা।


৯. গোড়ালি ছবিতে যেমন দেওয়া আছে।


১০. বুক ( স্বাভাবিক) বগলের তলায় কিন্তু স্তনদেশের উপর দিয়ে বুকের চারপাশে। এই সময় হাত দুটি ঝোলানো থাকবে। দম স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে মাপ নিতে হবে।


১১. বুক (স্ফীত)—এই সময় সম্পূর্ণ দম নিয়ে হাত দুটি ঝোলানো অবস্থায় অল্প পার্শ্বে ছড়িয়ে দম বন্ধ করে বুক ফুলিয়ে উপরে বর্ণিত স্থানের মাপ নিতে হবে।


১২. বুক (সঙ্কুচিত)—–হাত দুটি ঝোলানো অবস্থায় কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ অল্প সামনে বেঁকিয়ে এবং সম্পূর্ণ দম ছেড়ে উপরহাতের পেশী দিয়ে বুকের পেশী সঙ্কুচিত করে উপরে বর্ণিত স্থানের মাপ নিতে হবে।


১৩. কটি—–ঠিক ছবির মত পায়ের উপরের অংশ মধ্যকায়ের সঙ্গে যেখানে মিলিত হয়েছে, মধ্যকায়ের সেই জায়গার চারপাশে।


১৪. জানু কুঁচ্‌কির একটু নিচে হাঁটু থেকে একটু উপরে সব চেয়ে মোটা জায়গা।


উচ্চতা: উচ্চতা মাপার জন্য এক রকম কাঠের যন্ত্র (হাইট্ স্টান্ড ) পাওয়া যায়। যাদের পক্ষে এ রকম যন্ত্র যোগাড় করা সম্ভব নয় তারা ঘরের দেওয়ালের গায়ে মেঝে থেকে একটা মাপার ফিতf ধরে দেওয়ালে দাগ কেটে নিয়ে ওই দাগে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মাথার উপর দাগের গায়ে একটি মোটা বই ধরলে সহজে নিজের উচ্চতা মাপা যায়।


ওজন: ওজন মাপার জন্য বিভিন্ন রকমের ওজন মেশিন বাজারে পাওয়া যায়। প্রতিবার ওজন মাপার জন্য নির্দিষ্ট একটি মেশিনেই ওজন নেওয়া উচিত। অন্যথায় ওজনের (মেশিন-এরার এর জন্য ) কম-বেশি তারতম্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যতটা সম্ভব খালি গায়ে ওজন নেওয়া উচিত।