কেন যোগব্যায়াম করবেন
আদিম যুগ থেকেই রোগ প্রতিরোধের ভাবনা মানষের মনে এসেছে। এই ভাবনা থেকেই মানুষ ওষুধ আবিষ্কার করেছে।
ওষুধ আবিষ্কার করেও তার ফলাফল সম্পর্কে মানুষ নিঃসন্দেহ হতে পারেনি। দেহতত্ত্বজ্ঞান, দেহযন্ত্রের সমস্ত কার্যকারিতার জ্ঞান মানুষের মাঝে সীমাবদ্ধ। কতকটা অনুমানের উপর নির্ভর করেই চিকিৎসককে ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।
যারা অসুখ হলেই ওষুধ ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, রোগ তাদের সঙ্গ ছাড়ে না। এক অসুখ ভাল হওয়ার কিছুদিন পরই আবার তারা অন্য অসুখে শহ্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এইভাবে বারবার অসুখে ভুগে তারা অকালমৃত্যু বরণ করেন।
ওষুধের এই সুদূরপ্রসারী কুফল লক্ষ্য করে একদল বিচক্ষণ লোক উদ্বেগ প্রকাশ করতে লাগলেন, ওষুধের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেলেন। পশু-পাখি প্রভৃতির নিরাময় প্রণালী তারা লক্ষ্য করতে লাগলেন।
গৃহপালিত কুকুরটি মাঝে মাঝে এক-একদিন উপবাস দেয়, তার অতিপ্রিয় খাদ্যও সে স্পর্শ করে না। রোদের মধ্যে গিয়ে কুকুরটি নিঃশব্দে পড়ে থাকে। একবেলা বা একদিন এমন রৌদ্রস্নান করে ও উপবাস দিয়া কুকুরটি সতেজ হয়ে ওঠে। আবার সে আগের মতো খাবার খায় এবং ছুটাছুটি করে ফুর্তিতে দিন কাটায়।
ঘরের বিড়ালটিও মাঝে মাঝে এমন এক-আধদিন কিছুতেই খাদ্য স্পর্শ করে না, কতকগুলি দূ্র্বা ঘাস চিবিয়ে কয়েকবার বমি করে তারপর আরও কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে যথারীতি খাদ্য গ্রহণ করে।
গৃহপালিত গরুটি স্বরাক্রান্ত হলে কিছুতেই ঘাস খায় না। জলাশয়ের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে এবং প্রায়ই প্রতিঘণ্টা অন্তর জলাশয়ের কাছে গিয়ে প্রচুর পানি পান করে। এইভাবে একদিন বা দুইদিন শুধু পানি পান করে উপবাস দিয়ে দিয়া গাভীটি আবার সুস্থ-সবল হয়ে ওঠে।
পশু-পাখির নিরাময়-পদ্ধতি লক্ষ্য করেই ওষুধ-বিতৃষ্ণ ব্যক্তিরা প্রাকৃতিক চিকিৎসা প্রণালী আবিষ্কারের প্রেরণা লাভ করেন। এর ফলে অতিপ্রাচীন বৈদিক যুগ থেকেই আতপচিকিৎসা, জল-চিকিৎসা প্রভৃতি আবিষ্কৃত হয়।
ওষুধ আবিষ্কারকদের বিজ্ঞাপন ও বাগাড়ম্বরের দাপটে প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি হারিয়ে গেছে। কোনো বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবনা করার অভ্যাস জনসাধারণের নাই। গতানুগতিক পথে চলতেই তারা ভালোবাসেন।
বাগাড়স্বর ও বিজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণকে সহজেই প্রতারিত করা যায়। এইজন্যই প্রাকৃতিক চিকিৎসাপদ্ধতি, বর্তমান যুগে অজ্ঞাত ও অখ্যাত হয়ে গেছে।
মুষ্টিমেয় চিন্তাশীল ব্যক্তি আর কেউ এগুলো অনুসরণ করে না। আমাদের দেশের “যৌগ চিকিৎসা পদ্ধতি” প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতিরই পূর্ণরূপ।
ওষুধ রোগ নিরাময় করে, কিন্তু আবার এ পেটের ওষুধ-বিষেই নতুন রোগ সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক চিকিৎসায়ও রোগ নিরাময় হয়; কিন্তু ওষুধের মতো পরিণামে তা দেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয় না।
যৌগ চিকিৎসার বৈশিষ্ট্য হলো এটা যেমন রোগ আরোগ্য করতে পারে, তেমনি ভবিষ্যৎ রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও অসাধারণ।
যৌগিক আসন, মুদ্রা ও প্রাণায়াম অভ্যাসে স্নায়ু, পেশী, ধমনী, গ্রহ, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস প্রভৃতি দেহপরিচালক যন্ত্রগুলো এমন সবলতর হয়, এমন প্রাণবান্ত হয়ে ওঠে যে কোনো রোগবিষ বা কোনো রোগবীজাণু দেহে প্রবেশ করতে পারে না। এইজন্যই যৌগিক চিকিৎসা সমগ্র চিকিৎসা প্রণালীর শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত।
যোগীরা শরীর সম্পর্কে সুগভীর ও নির্ভুল জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছিলেন বলেই এই সর্বজনহিতকর যোগবিদ্যা আবিষ্কার তাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়েছিল। বর্তমান যুগে গ্রন্থি ও গ্রন্থির অন্তঃরসের ক্রিয়ার বিষয় আবিস্কার করে পাশ্চাত্যের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। অর্ধশতাব্দী আগেও তারা এই গ্রন্থি সম্পর্কে তেমন জানত না।
অথচ যোগীরা বহু হাজার বছর আগেই এই গ্রন্থিক্রিয়া সমন্ধে জ্ঞান লাভ করে এই গ্রন্থিগুলোকে সবল-সুস্থ রাখার উপযোগী সহজ যোগব্যায়াম আবিষ্কার করেছেন।
আমাদের এই অঞ্চলের পূর্বপুরুষ ঋষিদের আবিষ্কার এই যোগবিজ্ঞান সমগ্র বিশ্বের কাছে এক বিষ্ময়। সমগ্র বিশ্বের পক্ষেই অমূল্য সম্পদ স্বরূপ।
রোগ আরোগ্য করার চেয়ে রোগ সৃষ্টি হতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের লক্ষ্য হওয়া উচিত। মানুষকে এই লক্ষ্যে পৌছে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র যৌগিক ক্রিয়ারই আছে।
৫ বছরের শিশু থেকে ৯০ বছরের দ্ধ পর্যন্ত সকল বয়সের সকল নর-নারীর উপযোগী সহজ যোগব্যায়াম আছে। খাওয়া-দাওয়ায় সংযত থেক, সুষম পথ্য বা আদর্শ পথ্য গ্রহণ করে মাঝে মাঝে কিছু সময় যৌগিক আসন, মুদ্রা ও প্রাণায়াম করলে মৃত্যু পর্যন্ত দেহকে নীরোগ রাখা যায়, যৌবনকে অটুট রাখা যায়।
এমন মহা উপকারী যোগপদ্ধতি বাংলাদেশের ঘরে ঘরে প্রচার করার জন্যই ক্ষুদ্র প্রয়াস এই ওয়েবসাইট।
রোগীদের পক্ষে আয়ত্ত করা সম্ভব নয় এমন কোনো কঠিন যোগক্রিয়া এই ওয়েবসাইটে রাখিনি। নিরাময়ের জন্য কোনো কঠিন যোগক্রিয়া অভ্যাসের প্রায়োজন হয় না, রোগীদের জন্য অতি সহজ সহজ অল্প কয়েকটি যোগক্রিয়া দিয়ে সবরোগ নিরাময় করা যায়।
যোগাসনের নামে অনেকেই ভয় পায়। অনেকেরই এ সম্পর্কে ভুল ধারণা আছে। কিন্তু এই ওয়েবসাইটে যেসব যোগক্রিয়া আছে, তা যদি ঠিকঠাক নাও করতে পারেন তাহলেও শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নাই। সুতরাং নির্ভয়ে এই যোগব্যায়ামগুলো করেন এবং অটুট স্বাস্থ্য গঠনে যত্নশীল হোন।
আমরা সবাই জানি, যোগশাস্ত্র চিকিৎসাশাস্ত্র নয়। এটা অধ্যত্মবিজ্ঞান বা আত্মদর্শন শাস্ত্র। এইজন্যই রোগের কারণ বর্ণনা এবং রোগে নিয়ম-পথ্যবিধির উল্লেখ যোগশাস্ত্রের পক্ষে নিস্প্রোয়োজন। রোগের কারণ বর্ণনা করতে হলে চিকিৎসাশাস্ত্রের সহায়তা ছাড়া উপায় নাই।
আযুর্বেদশাস্ত্র যোগশাস্ত্রেরই ছোটভাই। এজন্য রোগের কারণ বিশ্লেষণে এখানে আয়ুর্বেদকেই বিশেষভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। আয়ুর্বেদ-বিবরণ যেখানে অতি সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট, সেখানে আধুনিক যুগে প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসাশাস্ত্রের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
যেকোনো সমস্যার কারণে যোগাসন করলে তা শরীরের অন্যান্য অংশকেও প্রভাবিত করে। তাই সমস্যার জন্যই আপনি যোগাসন করেন না কেন তা আপনি পুরো শরীরের জন্য উপকারী। সুস্বাস্থ্য এখান থেকেই শুরু হয়।
