পেটের খাদ্যবস্তু যতক্ষণ হজম না হয়, ততক্ষণ পরিপাকযন্ত্রগুলোকে পাচক রস সরবরাহের জন্য দেহের অধিকাংশ রক্তকেই পাকস্থলীতে উপস্থিত থাকতে হয়। 

মাঝে ২/১ দিন না খেয়ে পাকস্থলীকে বিশ্রাম দিলে পরিপাকযন্ত্রগুলিও বিশ্রাম লাভ করে অধিকতর সবল হওয়ার সুযোগ পায়।

দেহের রক্তও খাদ্য হজম করার কাজ থেকে অব্যাহতি পেয়ে  দেহস্থ রোগবিষ ও রোগজীবাণু ধ্বংসের কাজে এবং দেহের কল্যাণকর অন্যান্য কাজে আত্মনিয়োগ করার সময় পায়।

সুতরাং শুধু মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকার অভ্যাস করলে অধিকাংশ নতুন রোগ নিরাময় করা সম্ভব। এইজন্য রোগী-অরোগী সকলের জন্যই মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকার বিশেষ উপকার।

যেদিন না খেয়ে থাকবেন সেদিন আসলে খাবারের পরিবর্তে শুধু পিপাসা অনুযায়ী প্রচুর পানি পান করবেন। না খেয়ে থেকে শুধু পানি পান করলে দেহ-প্রকৃতি এ পানি দ্বারা সমুদয় দেহকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার, দেহ সঞ্চিত রোগবিষ ও রোগবীজাণু দেহ থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

এই প্রক্রিয়া শুধু দৈহিক রোগ নিরাময়েরই সহায়ক নয়, এটা মানসিক এবং আধ্যাত্বিক উন্নতিরও সহায়ক। আমাদের দেহের উত্তপ্ত রক্তই কাম-ক্রোধ ইত্যাদি রিপুকে উত্তেজিত করে। 

না খেয়ে থাকলে দেহের রক্ত শীতল হয়, স্নিগ্ধ হয়। এইজন্য কাম-ক্রোধও কমে যায়। এইজন্য পৃথিবীর সমগ্র ধর্মশাস্ত্রেই সাধকদের জন্য না খেয়ে থাকার (রোজ/উপবাস) বিধান আছে।

ক্ষধামান্দরোগী, বাতরোগী, অল্প ও অজীর্ণরোগী, রক্তচাপবৃদ্ধিরোগী সপ্তাহে একদিন নিষ্ঠার সাথে না খেয়ে  (উপবাস/রোজা/শুধু পানি পান) থাকবেন। এতে রোগমুক্ত থাকবেন।