দ্বিকোণাসন
সংস্কৃত শব্দ ‘দ্বি’ এর অর্থ ‘দুটো’, ‘কোণা’ মানে ‘কোণ’। শরীরকে এমন ভঙ্গতে রাখতে হয়, যেন দুটি সরলরেখা একটি কোণ তৈরি করছে। সামনে ও পিছন দিকে হেলে এই আসনটি করা হয় বলেই এই নামকরণ।
প্রণালী
টানটান হয়ে দাঁড়ান। দুই পায়ের মাঝে ফাঁক রাখুন কাঁধ বরাবর। আরাম করে দাঁড়ান।
এ বার দু’হাত পিছনের দিকে নিয়ে যান। হাতের তালু যেন নিতম্বের দিকে থাকে। এ বার দুই হাতের তালু ইন্টারলক করুন। এটি শুরুর অবস্থান। এই অবস্থানে ধীরে ধীরে শ্বাস টানুন।
এ বার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে নিতম্ব থেকে সামনের দিকে ঝুঁকতে হবে। এই সময় দু’হাত যতটা সম্ভব পিছন দিক থেকে উপরের দিকে তুলতে হবে। বেশি জোর করবেন না। হাঁটু যেন সোজা থাকে।
দুই হাত পিছন দিকে ওঠার সময় কাঁধ-সহ শরীরের উপরিভাগে সহ্য করার মতো চাপ দেবেন, যাতে বুক প্রসারিত হয়।
এই অবস্থানে থেকে ঘাড় সামনে থাকায় চাপ অনুভব করবেন। এই অবস্থানে ২০ সেকেন্ড থাকুন।
শ্বাস নিতে নিতে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ান। হাত নামিয়ে পাশে রাখুন। এক রাউন্ড সম্পূর্ণ হল, এই ভাবে ৪-৫ রাউন্ড অভ্যাস করতে হবে।
প্রতি রাউন্ড অভ্যাসের পর ১৫-২০ সেকেন্ড শবাসন করুন।
সতর্কতা
যাঁরা অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, কিংবা ঘাড়ে বা পিঠের কোনও ব্যথার রয়েছে অথবা সায়টিকা বা স্লিপ ডিস্কে ভুগছেন তাঁরা এই আসন অভ্যাস করবেন না।
উপকারিতা
কাঁধের পেশীর পাশাপাশি কলার বোনের আড়ষ্ঠতা কমে। হ্যামস্ট্রিং পেশী সুদৃঢ় হয়।
এই আসনে যেহেতু বুকসহ শরীরের উপরিভাগ নিচে নামানো হয় তাই ফুসফুসের অপ্রয়োজনীয় বাতাস বেরিয়ে আসে।
বাঁকানো ও অসম কাঁধের গঠন স্বাভাবিক হয়।
স্তনের আকার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের জন্যে আসনটি অত্যন্ত উপযোগী।
