নৌকার আকৃতি ভঙ্গিমায় এই আসনটি করা হয়। স্থির অবস্থানের এই আসন যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। এই আসনটি এমনই একটি দৃঢ় ও আঁটসাঁট ভঙ্গি, যার সাহায্যে বাহ্যিক সব কিছুকে নিজের দিকে কেন্দ্রীভূত করা যায়।


প্রণালী

ম্যাটের ওপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা সোজা থাকবে আর হাত পাশে। হাতের তালু থাকবে মাটির দিকে। এই অবস্থানে আরাম করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এটিই শুরুর অবস্থান।

এ বার ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে মাথা, ঘাড়, কাঁধসহ শরীরের ওপরের অংশ এবং দুই পা একসঙ্গে ওপরে তুলুন। ৬–৮ ইঞ্চির বেশি ওপরে না ওঠে খেয়াল রাখবেন। এই অবস্থায় মেরুদণ্ড ও পা সোজা থাকবে।

এ বারে দুই হাত কাঁধের সোজাসুজি সামনের দিকে ছড়িয়ে দিন। হাতের আঙুল থাকবে পায়ের দিকে। পায়ের বুড়ো আঙুলের দিকে তাকান।

নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখুন। এই অবস্থায় দেখতে লাগবে ঠিক নৌকার মতো।

কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকুন। এটিই নৌকাসনের অন্তিম ভঙ্গী। খেয়াল করলে বুঝবেন, এই অবস্থানে পেটে টান পড়ছে।

এ বারে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শুরুর ভঙ্গিতে ফিরে আসুন। চার রাউন্ড অভ্যাস করতে হবে।

এক একটি রাউন্ডের মাঝখানে কিছু ক্ষণ শবাসন-এ বিশ্রাম নেবেন।


উপকারিতা

একই সঙ্গে একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। 

পেট, কাঁধ, হাত, নিতম্বের পেশির রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হজম ক্ষমতা বাড়ে। 

স্নায়ুতন্ত্র এবং হরমোন গ্রন্থিকে উজ্জীবিত করে। 

আরামদায়কভাবে জড়তা কাটিয়ে সামগ্রিকভাবে কাজে উৎসাহ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। 

ঘুম থেকে উঠেই নৌকাসন অভ্যাস করলে আলস্য কেটে গিয়ে তরতাজা ভাব ফিরে আসে। 

নিজেকে ফিট রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই আসন অতুলনীয়। 

মনে রাখবেন

হার্টের অসুখ বা মেরুদণ্ডের সমস্যা থাকলে নৌকাসন অভ্যাস করবেন না। যাঁদের রক্তচাপ কম, প্রায়ই মাথার যন্ত্রণায় কষ্ট পান, ঘাড়ের সমস্যা আছে, তাঁদেরও এই আসন করা মানা।