তীর ছোঁড়ার সময় তীরের ফলাসহ ধনুকের ছিলা কানের কাছে আকর্ষণ করতে হয়। আসন-এ অবস্থানের সঙ্গে তীর ছোঁড়ার সাদৃশ্য আছে, তাই এই আসন-এর নাম আকর্ণ-ধনুরাসন।

প্রণালী


পা ছড়িয়ে বসুন। বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরুন। এইবার বাঁ হাতের নিচ দিয়ে ডানহাত দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরে বাঁ পা হাঁটুর কাছে ভেঙে বাঁ হাতের তলা দিয়ে বাঁ পায়ের পাতা আকর্ষণ করে ডান কানের কাছে এনে ৫৭ নং ছবির মত দেহের উপরের অংশ ডান দিকে একটু মোচড় দিন।


এই অবস্থায় সামর্থ্যমত ১৫/৩০ সেকেন্ড থাকার পর হাত ছেড়ে দিয়ে শরীর একটু সামনের দিকে ঝুলিয়ে পরে পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন।


এর পরে ঠিক আগের মত বিপরীত দিকে এই আসনটি অভ্যাস করুন অর্থাৎ ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরুন। পরে বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরে ডান পা হাঁটুর কাছে ভেঙে ডান হাতের তলা দিয়ে ডান পায়ের পাতা আকর্ষণ ক’রে বাঁ কানের কাছে আন এবং কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ বাঁ দিকে ঠিক আগের মতো মোচড় দিন।


এই আসন প্রতি দিকে সামর্থ্যমত ১৫/৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত অভ্যাস করতে পারেন। এই আসন প্রতিদিকে দুবার করে দু'দিকে চার বার অভ্যাস করুন।


পরে ১ মিনিট শবাসন করুন। এই আসন অভ্যাসকালে স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হয়।


উপকারিতা


এই আসন অভ্যাসে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও পেশীগুলো বিশেষ করে হাত-পা ও পিঠের পেশী ও স্নায়ুগুলি সুগঠিত হয়। যকৃতের কাজ ভাল হওয়ায় হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।


ছোট ছেলেমেয়েদের হাত বা পায়ের অস্থির কোন দোষত্রুটি থাকলে এই আসন অভ্যাসে সেরে যায়।


বয়স্ক লোকদের হাত বা পায়ে বাত হলে বা সায়টিকা থাকলে এই আসন অভ্যাসে নিরাময় হয়।