হলাসন
এই আসন-এ অবস্থানকালে দেহ হল অর্থাৎ লাঙ্গলের আকার ধারণ করে। তাই এই আসনের নাম হলাসন।
প্রণালী
হাত দুটি দেহের দুপাশে রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এইবার হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে দম নিতে নিতে পা দুটি এক সঙ্গে মেঝে থেকে তুলে মাথার পিছনে নিয়ে গিয়ে মাথা থেকে যতটা সম্ভব দূরের মেঝেতে ৪৮ নং ছবির মত পা রাখুন ও দম ছাড়ুন।
এই অবস্থায় থুতনি বুকে লাগিয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকুন। পা যেন হাঁটুর কাছে না ভাঙে, সে দিকে দৃষ্টি রাখুন। এই সময় স্বাভাবিকভাবে দম নিন ও ছাড়ুন। পরে দম নিতে নিতে আগের অবস্থায় ফিরে যান।
গোড়ালি মাটি স্পর্শ না করা পর্যন্ত মাথা মাটি থেকে উঠবেন না। সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন।
এই আসন ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করুন। প্রতিবার অভ্যাসের পর ৩০ সেকেন্ড শবাসন করতে হবে।
উপকারিতা
এই আসন অন্যান্য যৌগিক আসন-এর মতো মেরুদণ্ড ও থাইরয়েড্কে সবল ও কর্মক্ষম করে। এতে তলপেটের ও কোমরের মাংসপেশিগুলো সবল হওয়ায় ওই জায়গার স্থূলতা কমে।
সন্তান প্রসবের ৩ মাস পরে মায়েদের জন্য এই আসন বিশেষ উপকারী। এই আসন অভ্যাসে সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দূর হয়।
এই আসন কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।
১২ বছর পূর্ণ না হলে ছেলে-মেয়েদের এই আসন না করাই ভাল।
