জানুশিরাসন
যে আসন-এ অবস্থানের সময় জানুর অর্থাৎ হাঁটুর উপর অংশে শির অর্থাৎ মাথা রাখতে হয়, সেই আসন-এর নাম জানুশিরাসন।
প্রণালী
পা দুটি সামনে ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। বাঁ পা হাঁটুর কাছে ভেঙে বাঁ পায়ের গোড়ালি যোনিমণ্ডলে (গুহ্যদ্বার থেকে অণ্ডকোষের নিচে যে জায়গাটা সেলাই করার মতো ওই জায়গাকে যোনিমণ্ডল বলে) শিথিল করে চেপে রেখে বাঁ পায়ের পাতা ডান পায়ের ঊরুতে সংলগ্ন করুন।
এখন দু'হাত দিয়ে ডান পায়ের আঙ্গুলগুলি ধরুন। (এই সময় যাতে ডান হাঁটু না ভাঙে, মাটিতে লেগে থাকে, সে দিকে দৃষ্টি রাখুন) এইবার দম ছাড়তে ছাড়তে আস্তে আস্তে ৫৮ নং ছবির মত ডান হাঁটুতে কপাল ঠেকান।
এই অবস্থায় দম স্বাভাবিক রেখে ১০/১৫ সেকেন্ড থাকার পর দম নিতে নিতে মাথা তুলে হাত ছেড়ে পা ছড়িয়ে দিন এবং ১০/১৫ সেকেন্ড শবাসন করুন।
ঠিক এই রকমভাবে ডান পা হাঁটুর কাছে ভেঙে ডান পায়ের গোড়ালি যোনিমণ্ডলে চেপে রেখে ডান পায়ের পাতা বা পায়ের উরুতে সংলগ্ন ক'রে দু'হাত দিয়ে বাঁ পায়ের আঙ্গুলগুলো ধরে বাঁ হাঁটুতে কপাল ঠেকিয়ে দম স্বাভাবিক রেখে ১০/১৫ সেকেন্ড থেকে দম নিতে নিতে আগের অবস্থায় ফিরে যান এবং শবাসন করুন।
প্রতি পায়ে এই আসনটি ৩ বার করে দু'পায়ে ৬ বার অভ্যাস করুন। সামর্থ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আসন-এর সময়ও বাড়াতে হবে।
উপকারিতা
মূত্রাশয়ের দোষ দুর হয়। এই আসন অভ্যাসে প্যানক্রিয়াসের কাজ ভাল হওয়ায় প্যানক্রিয়াস থেকে প্রয়োজনমত ইনসুলীন' রস বের হয় বলে এই আসন-এ বহুমুত্র সেরে যায়।
এ ছাড়া এই আসন-এর অন্যান্য গুণ–অর্শ, কটিবাত সারানো এবং সায়টিকা নিবারণ করে।
