মূলবন্ধ মুদ্রা সম্বন্ধে আলোচনা করতে হলে প্রথমে নাড়ী সম্বন্ধে বিশেষ করে শঙ্খিনী নাড়ী সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন। আমাদের শরীরের মধ্যে অসংখ্য নাড়ী আছে। তার মধ্যে ১৪টি প্রধান। এগুলো হলো—ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না, সরস্বতী, বারূণী, পুষা, হস্তিজিহ্বা, যশস্বিনী, বিশ্বোদরী, কুতু, শঙ্খিনী, পরদ্বিণী, অম্লম্বুষা ও গান্ধারী।

জননেন্দ্রিয় ও গুহ্যদেশের মাঝখানে অবস্থিত কুন্দস্থান হতে ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না, কুতু, শঙ্খিনী প্রভৃতি প্রধান নাড়ীগুলির উৎপত্তি হয়েছে। কুহুনাড়ী জননেন্দ্রিয়ের সমস্ত কাজ সুচারুরূপে সুসম্পন্ন করে আর শঙ্খিনী নাড়ী দেহের মল নির্গমনে সহায়তা করে। এই কুন্দস্থানেই কুলকুন্ডলিনী নিদ্রিত সাপের আকারে বিরাজ করছেন।

যে মুদ্রা অভ্যাসে মূলস্থানের অর্থাৎ কুন্দস্থানের গ্রন্থি ও স্নায়ুসমূহ অধিক কর্মক্ষম ও সবল হয়ে ওঠে, তারই নাম মূলবন্ধ মুদ্রা।


প্রণালী


১৪ নং ছবির মত সিদ্ধাসন-এ বসে বাঁ পায়ের গোড়ালি দ্বারা যোনিদেশে পীড়ন করে আস্তে আস্তে দম নিতে নিতে গুহ্যদেশ সবলে তা আকুঞ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে শঙ্খিনী নাড়ীকে (জননেন্দ্রিয় ও গুহ্যদেশের মাঝখানে কুন্দস্থান থেকে যার উৎপত্তি) উপরে আকর্ষণ করুন।


পরে আস্তে আস্তে দম ছাড়তে ছাড়তে আকুঞ্চন শিথিল করে দিন। এই মুদ্রা দিনে দুবার, সকাল ও সন্ধ্যায়, সামর্থ্যমত প্রতিবারে ১০ বার থেকে ২০ বার পর্যন্ত অভ্যাস করা উচিত।


উপকারিতা


এই ক্রিয়া অভ্যাসে শঙ্খিনী নাড়ী সবল ও অধিক কর্মক্ষম হওয়ায় মলাদি অন্ত্র হইতে সহজে নির্গত হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠবদ্ধতা দুর হয়। অর্শ রোগ হতে পারে না। হলেও সেরে যায়।


এ ছাড়া এই ক্রিয়ায় শঙ্খিনী নাড়ীর সাথে কুতু নাড়ীর কাজ ভাল হওয়ায়, ইন্দ্রিয় সংযম বীর্যধারণ ও ব্রহ্মচর্য পালন সহজ হয়।


মূলবন্ধ মুদ্রা অভ্যাসে বৃদ্ধও যুবার মত স্বাস্থ্য ও শক্তির অধিকারী হয় এবং অভ্যাসকারীর যৌন মিলনের ধারণা-শক্তি বৃদ্ধি পায়।