যে আসন-এ দেহের ‘পশ্চিম' অর্থাৎ পৃষ্ঠদেশের সমস্ত পেশীর প্রসারণ হয়, তাকে পশ্চিমোত্তানাসন বলে। এই আসনকে উগ্রাসন বলা হয়েছে।

প্ৰণালী 

চিৎ হয়ে হাত দুটি মাথার উপর লম্বালম্বি ছড়িয়ে শুয়ে পড়ুন। এইবার কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পা দুটি সোজা রেখে কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ দম নিতে নিতে আস্তে আস্তে মাটি থেকে তুলে সামনে বেঁকিয়ে দু'হাতের আঙ্গুল দিয়ে দু'পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরুন ও দম ছাড়ুন। 

এখন সামনের দিকে আরো ঝুঁকে কপাল ও মুখ হাঁটুতে ৪৭ নং ছবির মত ঠেকান এবং সঙ্গে সঙ্গে হাত দুটি কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে কনুই হাঁটুর কাছে মাটিতে ঠেকান। 


(প্রথম অভ্যাসকারী যদি পা সোজা রেখে কপাল ও মুখ হাঁটুতে ঠেকাতে না পারে, তবে প্রথম প্রথম তার উচিত – পা হাঁটুর কাছে একটু ভেঙে হাঁটু অল্প - উপরে তুলে এই আসন অভ্যাস করা। এইভাবে কিছুদিন অভ্যাসের পর তার পক্ষে পা মাটিতে সোজা রেখে অভ্যাস করা সহজ হয়ে যাবে।)

এই অবস্থায় দম স্বাভাবিকভাবে নিতে নিতে ও ছাড়তে ছাড়তে ২০/৩০ সেকেন্ড থাকবার পর প্রথমে দম নিয়ে পরে দম ছাড়তে ছাড়তে পূর্বাবস্থায় ফিরে যান। 

এই আসন অভ্যাসকালে যাতে হাঁটু উপরে উঠে না পড়ে, সে দিকে দৃষ্টি রাখুন। কিছুদিন অভ্যাস করার পর আসনকারীর উচিত—এই অবস্থায়, উপরের ছবির মত বুক ও পেট জানুর সঙ্গে লাগাতে চেষ্টা করা।

এই আসন প্রথম প্রথম প্রতিবারে ২০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করতে হবে এবং প্রতিবার অভ্যাসের শেষে ২০ সেকেন্ড শবাসন করতে হবে।

উপকারিতা

এই আসন-এ মেরুদণ্ড, মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়, বিশেষ করে ডায়েরিয়া অর্থাৎ সকালে পাতলা দাস্ত হওয়া সেরে যায়। 

সায়টিকা, অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য করতে এ আসন পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। আমাশয় রোগের প্রথম অবস্থাতেও এই আসনটি বিশেষ উপকারী। 

এ ছাড়া এই আসন-এ অভ্যাসে উদর ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।

যাদের প্লীহা বা যকৃত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে বা যাঁরা এপেন্ডিসাইটিস, বা হার্নিয়ায় ভুগছেন তাঁদের পশ্চিমোত্তানাসন অভ্যাস করা নিষেধ।