সংস্কৃতে ‘তোল’ শব্দের অর্থ ওজন এবং 'আঙ্গুল' শব্দের অর্থ অঙ্গুলি। যে অবস্থানে দেহের সমস্ত ভার হাতের আঙ্গুলের উপর রেখে কোমর থেকে দেহের নিম্ন ও ঊর্ধ্বভাগ শূন্যে সমানভাবে তোল অর্থাৎ ওজন করা হয় সেই অবস্থানের নাম তোলাঙ্গুলাসন।

প্রণালী


প্রথমে ৬ নং ছবির মত পদ্মাসন-এ বসুন। পরে হাত দেহের দুপাশে রেখে শুয়ে পড়ুন। এইবার দুহাতের আঙ্গুল কোমরের তলায় নিয়ে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে দৃঢ়বদ্ধ করুন।


এখন দেহের ভার সমভাবে কোমরের নিচে অবস্থিত আঙ্গুলের উপর রেখে কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ (মাথা পর্যন্ত) এবং কোমর থেকে দেহের নিচের অংশ (বদ্ধ পা পর্যন্ত) সমভাবে ওপরে তুলে ৬০ নং ছবির আকার ধারণ করুন।



এই অবস্থায় ৫/১০ সেকেন্ড থাকার পর পা ও হাত মুক্ত করে শবাসন-এ শুয়ে পড়ুন। এই আসন প্রথম শিক্ষার্থী প্রতিবারে ৫/১০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করবেন। পরে সামর্থ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবার ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত অভ্যাস করতে পারেন।


প্রতিবার অভ্যাসের পর ১০/১৫ সেকেন্ড শবাসন করতে হবে। এই আসন অভ্যাসকালে দম স্বাভাবিকভাবে নিতে ও ছাড়তে হয়।


উপকারিতা


এই আসন অভ্যাসে পেটের মাংসপেশি সবল হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের বহু পীড়া নিরাময় হয় এবং প্লীহার কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


মায়েরা প্রসবের তিনমাস পরে এই আসন অভ্যাস করলে প্রসবান্তে পেটের থলথলে ভাব চলে যায় এবং পেটের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।


যাদের পেটের মধ্যে কোনো ক্ষত আছে, যাদের প্লীহা অতিরিক্ত বড়, যাদের হৃদযন্ত্র দুর্বল, তাদের এই আসন অভ্যাস করা নিষেধ।


মায়েদের গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পর তিনমাস এই আসন অভ্যাস করা উচিত নয়।