ব্যায়াম ও আসন অভ্যাসে আমাদের শরীরের বিভিন্ন উন্নতি হয়। কিন্তু ত্রাটক অভ্যাসের মাধ্যমে আমরা আমাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি যতটা বৃদ্ধি করতে পারি—তা অন্য কোন পদ্ধতিতে সম্ভব নয়।

ত্রাটক অভ্যাসের আগে অভ্যাসকারীদের জানা দরকার—তারা শরীরের যে অঙ্গের জন্য এই মুদ্রা অভ্যাস করছে সেটি একটি মূল্যবান অঙ্গ। চোখ আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রিয়।

সুতরাং অভ্যাসের সময় আমাদের চোখের উপর বা চোখের সূক্ষ্ম স্নায়ুমন্ডলী এবং মাংসপেশির উপর যেন কোন রকম চাপ না পড়ে --সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।


প্রণালী


মন স্থির করে যে কোন ধ্যানাসন-এ বসুন। সামনের পরিষ্কার দেওয়ালে একটি বিন্দু (কাল দাগ) অথবা টেবিলে মোমবাতির আলোর সামনে বসে এক ভাবে কিছুক্ষণ নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।


দেখা যাবে কিছু সময় পরে চোখ দিয়ে অল্প পানি বের হচ্ছে। তার জন্য ভয়ের বা চিন্তার কারণ নেই।


এই অবস্থায় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে অন্য কোন আলো আশপাশ থেকে বেশি পরিমাণে চোখের উপর এসে না পড়ে।


ভোরবেলা প্রাতঃ সূর্যের দিকে তাকিয়ে অভ্যাস করলে আমাদের চোখের রেটিনার কাজ আরও ভাল হয়। অভ্যাসকালে নির্দিষ্ট দিকে সামর্থ্য মত ৫/৭ মিনিট তাকাতে হবে।


কিছুদিন এইভাবে অভ্যাসের পর যে কোন ধ্যানাসন-এ বসে শরীর স্থির রেখে কেবলমাত্র চোখের মণি ধীরে ধীরে একবার ডানদিকে পরে বামদিকে এবং একবার উপর দিকে পরে নীচের দিকে নিয়ে যাবেন।


একদিক থেকে অপর দিকে যাবার সময় মণিকে স্বাভাবিক অবস্থায় অর্থাৎ সামনের দিকে অল্পক্ষণ রাখবেন।


নিজের সামর্থ্য মত প্রতিদিকে ৫/১০ বার চোখের মণি ঘোরাবেন। আরও কিছুদিন এইভাবে অভ্যাসের পর চোখের মণি ঘড়ির কাঁটার মতন (ক্লক্ ওয়াইজ্‌) একবার ঘোরাবার পরে উল্টোদিকে (অ্যান্টি ক্লক্ ওয়াইজ্‌) একবার ঘোরাতে হবে। সব সময়ই মনে রাখতে হবে যেন অতিমাত্রায় না হয়।


নিজের সামর্থ্য মত ৫ থেকে ১০ বার অভ্যাস করবেন। বরং কম করবেন—বেশি বার মোটেই করবেন না।


এইভাবে অভ্যাসের পর হাতের তালু দিয়ে চোখের উপর হাল্কা মালিশ করতে হবে।


উপকারিতা


ত্রাটক অভ্যাসে চোখের অনেক রোগ সেরে যায়। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ঘুম থেকে উঠার পর যাদের চোখে যন্ত্রণা হয় এবং অল্প ছানি পড়ছে এমতাবস্থায় ত্রাটক অভ্যাসে বিশেষ ফললাভ করবেন।


কোনো কারণ ছাড়াই যাদের কোনও কারণে চোখ দিয়ে জল পড়ে ত্রাটক অভ্যাসে তারা দ্রুত সুফল লাভ করবেন।