বিপরীতকরণী মুদ্রা
মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতা ও নমনীয়তা কম থাকলে বা নষ্ট হয়ে গেলে প্রথম যোগব্যায়াম অভ্যাসকারীর পক্ষে সর্বাঙ্গাসন অভ্যাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অবস্থায় প্রথমে কিছুদিন বিপরীতকরণী মুদ্রা অভ্যাস করলে মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতা ও নমনীয়তা আবার ফিরে পাওয়া যায়।
বিপরীতকরণী সর্বাঙ্গাসন-এর অনুরূপ বটে। তবে দেহের কয়েকটি স্থানের অবস্থান একটু বিপরীত বলে অভ্যাস করা সহজ।
বিপরীতকরণীকে কেহ কেহ অর্ধসর্বাঙ্গাসন বলে।
প্রণালী
প্রথমে চিৎ হয়ে শোন। পা জোড়া অবস্থায় দম নিতে নিতে শরীর উপরে তুলুন। দু হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে হাতের তালুর সাহায্যে কোমরে ঠেকা দিয়ে বুক, কোমর ও পাছা উপরে তুলে পা জোড়া অবস্থায় ৬৬ নং ছবির আকার ধারণ করুন।
এই আসন-এ অবস্থানকালে দম স্বাভাবিকভাবে নিতে ও ছাড়তে হবে। এই আসন-এ সামর্থ মত ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করতে হবে। পরে দম ছাড়তে ছাড়তে শরীর নামান।
বিপরীতকরণী ও সর্বাঙ্গাসন-এর পার্থক্য বিপরীতকরণী অবস্থায় দুই হাতের তালু কটিদেশে রাখতে হয় আর সর্বাঙ্গাসন-এ দুই হাতের তালু কটি ও পৃষ্ঠের মধ্যস্থলে রাখতে হয়।
সর্বাঙ্গাসন-এ দেহ ভূমির সঙ্গে প্রায় সমকোণ থাকে কিন্তু বিপরীতকরণী অভ্যাসের সময় কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ তত উপরে ওঠে না এবং চিবুক ও কন্ঠকূপের মধ্যে অল্প ফাঁক থাকে।
উপকারিতা
এই মুদ্রা অভ্যাসে জরা ও ব্যাধি দূরীভূত হয়। দেহের উপর বিপরীতকরণীর প্রভাব অনেকটা সর্বাঙ্গাসন-এর মত। তবে থাইরয়েড গ্রন্থির উপর এই আসন-এর খুব একটা প্রভাব না থাকায় তত কার্যকরী নয়।
কিছুদিন এই আসন অভ্যাসের পর মেরুদণ্ড নমনীয় হলে এই আসন অভ্যাস করা বন্ধ করে সর্বাঙ্গাসন অভ্যাস করা উচিত।
