যে মুদ্রা অভ্যাস করলে দেহের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সুস্থ সবল ও নিরোগ হয়, তাকে সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গসাধন মুদ্রা বলে।

প্রণালী


বিপরীতকরণী মুদ্রা অভ্যাস সহজসাধ্য হলে সর্বাঙ্গাসন অভ্যাস করা সহজ হয়। চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি সোজা উপরে তুলুন।


এইবার ৬৭ নং ছবির মত দু হাত কটি ও পৃষ্ঠের মধ্যস্থলে কোমরে ঠেকা দিয়ে দম নিতে নিতে বুক কোমর ও পাছা ৬৮ নং ছবির মত উপরে তুলুন। এই অবস্থায় যাতে থুতনি বুকে লেগে থাকে সে দিকে দৃষ্টি রাখুন।


এই আসন অভ্যাসকালে স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হয়। পরে দম ছাড়তে ছাড়তে হাঁটু না ভেঙে শরীর নামাতে হয়।


এই আসন প্রথম ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করতে হয়। প্রতিবার অভ্যাসের পর ৩০ সেকেন্ড শবাসন করতে হয়।


উপকারিতা


এই আসন-এ বৃহদ্ধমনী (প্রধান রক্তবাহী শিরা) বিপরীতমুখী হওয়ায় দেহের বদ্ধরক্ত গলদেশে সঞ্চিত হয়ে ইন্দ্রগ্রন্থিকে (থাইরয়েডকে) সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।


এই আসন-এ হৃৎপিণ্ডটি উপরে ও থাইরয়েড নিচে আসায় মাধ্যাকর্ষণশক্তি হৃৎপিণ্ড থেকে অম্লজান মিশ্রিত বিশুদ্ধ রক্ত টেনে ইন্দ্রগ্রন্থি (থাইরয়েড্) ও স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তস্নাত করে সতেজ করে।


এই আসন দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


ম্যালেরিয়ায় ক্রমাগত ভোগার দরুন যাদের প্লীহা বড় হয়েছে, যাদের হাঁপানি আছে, তাদের এই আসন বিশেষ উপকারী।


সর্বাঙ্গাসন অভ্যাসে ইন্দ্রগ্রন্থি (থাইরয়েড্) পুষ্ট ও সজীব হলে স্বপ্নদোষ ও শুক্রহীনতা প্রভৃতি নিরাময় হয়, স্ত্রী-পুরুষদের যৌনগ্রন্থি সঞ্জীবিত হয়; পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়। প্রাচীন ঋষিরা বলেন, সর্বাঙ্গাসন অভ্যাসে সর্বরোগ দূর হয়।


সর্বাঙ্গাসনের পর মৎস্যাসনহলাসন অভ্যাস করা উচিত।


আবার সর্বাঙ্গাসনের পর হলাসন অভ্যাস করলে ইন্দ্রগ্রন্থিতে অধিকতর সুষ্ঠুভাবে রক্ত চালনা হওয়ার দরুন ঐ গ্রন্থির কর্মক্ষমতা অধিকতর বৃদ্ধি পায়।


তা ছাড়া গ্রীবা ও তৎসংলগ্ন কশেরুকা (সার্ভাইক্যাল্ রিজিঅনস্) অধিকতর প্রসারিত হওয়ায় ওই প্রদেশে অধিকতর রক্ত সঞ্চালিত হয়।


ফলে মেরুদণ্ডের উপরদিকের কশেরুকার মধ্যে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত হওয়ার দরুন মেরুদণ্ড অধিকতর কর্মক্ষম হয়।