যে মুদ্রা অভ্যাসে দেহ রোগমুক্ত হয়ে যোগসাধনের উপযুক্ত হয় তাকে যোগমুদ্রা বলে।

প্রণালী

প্রথমে ৬নং ছবির মত পদ্মাসন বা মুক্তপদ্মাসন-এ বসুন। এখন হাতের তালু উপরের দিকে করে দুই হাত কোলে নাভির উপর রেখে দম ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ সামনে বেঁকিয়ে কপাল ৬৫ নং ছবির মত মাটিতে ঠেকান। 

(এখন পাছা যাতে মাটি থেকে উঠে না পড়ে, সে দিকে দৃষ্টি রেখে) এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে দম নিতে নিতে ও ছাড়তে ছাড়তে ১০/১৫ সেকেন্ড থাকার পর দম নিতে নিতে আগের অবস্থায় ফিরে যান। 

এই আসন পায়ের অবস্থানের পরিবর্তন করে ৪ বার অভ্যাসের পর ১ মিনিট শবাসন-এ অবস্থান করতে হয়। তবে প্রতি বারই শবাসন করতে হবে। 

উপকারিতা

এই মুদ্রা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্লীহা ও রুগ্ন যকৃতকে সুস্থ সবল করে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে এবং পুরাতন কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করতে সহায়তা করে। 

ভীষণ কোষ্ঠবদ্ধতার জন্যে অনেক সময় মলনালীতে ২/৩ দিনের মল সঞ্চিত হওয়ার দরুন মলনালী মলের ভারে ঝুলে পড়ে। স্থানভ্রষ্ট নালী দুর্বল হওয়ায় ঠিকমত মল নিঃসৃত হতে পারে না। এই অবস্থায় কোন ঔষধেই স্থায়ীভাবে কোষ্ঠবদ্ধতা সারতে চায় না। 

তখন এই যোগমুদ্রা স্থানভ্রষ্ঠ মলনালীকে নিজ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বস্তিপ্রদেশের গ্রন্থি ও স্নায়ুগুলিকে সুস্থ সবল রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। 

এছাড়া এই মুদ্রা অভ্যাসে পেটে চর্বি জমতে পারে না এবং জানু ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়। এই মুদ্রা হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।