ভোরে ঘুম ভাঙ্গার পরে সাধারণভাবে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে দুই গ্লাস নর্মাল পানি পান করবেন। শীতপ্রধান দেশে যদি আপনার বসবাস হয় তাহলে হালকা গরম পানি পান করবেন। 

এই প্রক্রিয়ার নাম ঊষাপান (রোগীরা উষাপানের পরেই সহজ বস্তিক্রিয়া করবেন)। ঝাড়ুদাররা পানির সাহায্যে প্রতিদিন ভোরে যেভাবে শহরের নর্দমা পরিষ্কার করে তেমনি শরীরের অনিষ্টকারী বিষাক্ত পদার্থগুলোকে, অপ্রয়োজনীয় পদার্থগুলোকে মল-মৃত্রের সাথে শরীর থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

প্রথম প্রথম ঊষাপান অভ্যাসের সময় দুই গ্লাস পানি পানে অক্ষম হলে, এক গ্লাস পানি পান করবেন এবং অল্প অল্প পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে দুই গ্লাসে পরিণত করবেন।

দুপুরে খাওয়ার আধঘণ্টা/১৫ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি খাবেন। খাওয়ার মাঝখানে পিপাসা না পেলে পানি খাবেন না। 

খাবারের একঘণ্টা-দেডঘণ্টা পর পুনরায় একগ্লাস পানি পান করবেন। রাতের খাবারের একঘন্টা আগে একগ্লাস পানি পান করবেন। খাবার শেষে আরেক গ্লাস পানি পানি করে ঘুমাতে যাবেন। 

এই নিয়মে খালিপেটে দিনের মধ্যে ৫ গ্লাস পানি পান করবেন। এছাড়া পিপাসা অনুযায়ী অন্য সময়েও পানি পান করবেন। 

আমাদের দেহের প্রধান উপাদান অম্লজান বায়ু (অক্সিজেন) পানির সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। পানির সঙ্গে মিশ্রিত এই  জলের সাথে মিশ্রিত এই অম্লজান বাযুই জলচর জীবের প্রধান খাদ্য। 

আমাদের দেহের পক্ষেও জলীয় অম্লজান বায়ুর প্রয়োজনীয়তা আছে। দেহের পরিপাক ক্রিয়ার সহায়তার জন্য উল্লিখিত পরিমাণ পানিপান আমাদের সকলের পক্ষেই প্রযোজন।

পিন্তরোগী, অম্ল ও অজীর্ণরোগী পানির সাথে লেবুর রস মিশ্রিত করে পানি পান করবেন।রোগীর শীত-শীত ভাব থাকলে রোগীকে শীতল পানির পরিবর্তে  গরম পানি পান করতে দেবেন। 

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর এবং হৃদরোগীর একসঙ্গে বেশি পানি পান করা নিষিদ্ধ। এইসব রোগী ২০/২৫ মিনিট অন্তর অল্প অল্প পানি বারে বারে পান করবেন।

পানিপানের মোট পরিমাণ অন্তত ৫/৬ গ্লাসের কম না হয় সেই বিষয়ে সচেতন থাকবেন। সুস্থ-অসুস্থ সকলের পক্ষেই এই পরিমাণ পানিপান স্বাস্থ্যকর।