আসন বলতে কী বুঝি?
আসন মূলত দেহের একটি ভঙ্গি। বসে বসে ধ্যানের মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট বা বিশেষ ভঙ্গিতে বিন্যস্ত বা স্থাপিত করে কিছুক্ষণ অবস্থান করার প্রক্রিয়াই হলো আসন।
আসন শব্দের সাধারণ অর্থ হলো― যার উপর উপবেশন করা যায়। যেমন চেয়ার, মাদুর, টুল ইত্যাদি। যোগশাস্ত্রে আসনের ভিন্নতর অর্থ বহন করে।
সাধনার জন্য যে সাতটি সাধনবিধি আছে, তার একটি বিধি হলো দৃঢ়তা। এই দৃঢ়তাকে ধারণ করার প্রক্রিয়াকেও আসন বলা হয়।
যোগাসনের মাধ্যমে দেহকে সুস্থ, নমনীয় ও সহনশীল করা হয়। এর জন্য কিছু বিধিবদ্ধ দেহভঙ্গিমাকে অনুসরণ করা হয়।
যোগীরা দেহকে ধ্যানের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য আসনের চর্চা করতেন। যোগীরা বহুবিধ দেহ ভঙ্গিমার বিন্যাস-চর্চার মধ্য দিয়ে নানা ধরনের আসনের চর্চা করেছেন।
ধ্যান দ্বারা অভীষ্ট লক্ষে পৌছার জন্য দেহকে বিশেষ ভঙ্গিমায় স্থাপন করলে, ধ্যানের প্রগাঢ়তা বাড়ে। একই সাথে উক্ত ভঙ্গিমা বা আসনের জন্য দেহেরও কিছু উপকার হয়। একালের অধিকাংশ মানুষ তাই যোগাসনের চর্চা করেন স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য।
যোগশাস্ত্রে আসন সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ ৮৪ লাখ আসনের কথা বলেছেন। তবে এর ভিতর ১৬০০ আসন উৎকৃষ্ট। এর ভিতর আবার ৩২টি আসন মানুষের জন্য কল্যাণকর।
যোগাসনকে মূলত দুটিভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগ দুটি হলো― ধ্যানাসন ও স্বাস্থ্যাসন । ধ্যানের দ্বারা পরমেশ্বরকে পাওয়ার উপযোগী আসনকে ধ্যানাসন বলা হয়। এর সংখ্যা ২৮টি।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য উদ্ধার ও শরীরর সুস্থ রাখার জন্য আসন হলো―স্বাস্থ্যাসন । এর সংখ্যা ৫৬টি। সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪টি।
যোগশাস্ত্রে প্রতিটি আসনেরই রয়েছে সুনির্দিষ্ট নাম। কিন্তু এই নামের সাথে আসন যুক্ত করে উচ্চারণ করা হয়। যেমন―পদ্ম নামক আসনটিকে উল্লেখ করা হয়েছে পদ্মাসন (পদ্ম+আসন) নামে।
