দণ্ডায়মান জানুশিরাসন
জানুশিরাসন-এর উন্নততর অবস্থান হলো—দণ্ডায়মান জানুশিরাসন। এই আসন আয়ত্তে আনা কিঞ্চিৎ কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ।
প্রণালী
দু হাত কোমরে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এইবার ডান পায়ের ওপর দেহের ভারসাম্য বজায় রেখে বাঁ পা ভূমি থেকে তুলে সামনে ছড়িয়ে দিয়ে ভূমির সমান্তরাল করুন।
এই অবস্থানটি ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে ৭/৮ দিন নিয়মিত অভ্যাস করে আয়ত্তে আনতে হয়। এই সময় লক্ষ্য রাখতে হয়—যাতে শরীর না কাঁপে বা ডান পা না টলে।
উপরে বর্ণিত অবস্থানটি আয়ত্তে এলে দুহাত দিয়ে সামনে প্রসারিত বাঁ পায়ের আঙ্গুল ধরুন—যাতে বাঁ পা সম্পূর্ণ সোজা ও ভূমির সমান্তরালভাবে থাকে—সে দিকে দৃষ্টি রাখুন।
এই অবস্থায় প্রথম প্রথম বাঁ পা হাঁটুর কাছে ভেঙে যেতে চায়, পুনঃপুনঃ বাঁ পা সোজা রাখতে চেষ্টা করতে হয়।
এইবার কোমর থেকে উপরের শরীর সামনে বেঁকিয়ে ৫৯ নং ছবির মত কপাল হাঁটুতে ঠেকান। এই অবস্থায় ডান পা যেন সোজা থাকে এবং উভয়েই উভয়ের লম্ব অবস্থায় থাকে সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
উপরে বর্ণিত উপায়ে এই আসনটি ধীরে ধীরে কয়েক দিন অভ্যাস করলে সহজেই আয়ত্তে আনা সম্ভব হবে। এই আসন অভ্যাসকালে দম স্বাভাবিকভাবে নিতে ও ছাড়তে হবে।
নিজের সামর্থ্যমত ৫/১০ সেকেন্ড এই আসন-এ অবস্থান করার পর পা বদল করে অর্থাৎ বাঁ পায়ের ওপর দেহের সম্পূর্ণ ভার রেখে ডান পা সামনে তুলে ভূমির সমান্তরাল করে ধীরে ধীরে সামর্থ্যমত আবার ৫/১০ সেকেন্ড অভ্যাস করতে হবে।
পরে ২০/৩০ সেকেন্ড শবাসন অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা
এই আসন অভ্যাসে হাঁটুর সন্ধিস্থলের উপরের পেশী ও মেরুদণ্ড অধিকতর নমনীয় হয়। ফলে হাঁটুতে ও কোমরে বাত হতে পারে না।
এ ছাড়া মেরুদণ্ডের, হাত ও পায়ের পেশীগুলো নমনীয় হওয়ার দরুন কোমর থেকে দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের স্বাভাবিক সমতা বজায় রাখা সহজ হয়।
যে সব ছেলে-মেয়েদের ঊর্ধ্বাঙ্গের ও নিম্নাঙ্গের মধ্যে সমতার অভাব আছে—তারা এই আসনটি নিয়মিত কিছুদিন অভ্যাস করলে তাদের দেহের সমতা ফিরে আসবে।
