যে আসন-এ অবস্থান করে যোগীরা কুম্ভকযোগে পানিতে মৎস্যের ন্যায় ভেসে থাকতে পারেন, সেই আসনকে মৎস্যাসন বলে।

প্রণালী


প্রথমে ৬ নং ছবির মত পদ্মাসন-এ বসুন। পদ্মাসন-এ অবস্থান থেকে যাদের মৎস্যাসন অভ্যাস করতে কষ্ট হয় তারা  বীরাসন-এ ৭ নং ছবির মতো বসে এই আসন অভ্যাস করতে পারে।


এইবার চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন (হাঁটু যেন মাটিতে থাকে, সে দিকে দৃষ্টি রাখুন) এবং কনুই মাটিতে ঠেকা দিয়ে মাথার ব্রহ্ম-তালু মাটিতে তুলে, পাছা থেকে দেহের ওপরের অংশ সেতুর মত করুন।


হাতের আঙ্গুল দিয়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরে ৬৯ নং ছবির মত বুক যতদূর পারেন উপরে তুলুন। এই অবস্থায় কনুই মাটিতে ঠেকালে বুক অধিক প্রসারিত হয়।


এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থেকে পরে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল থেকে হাত নামিয়ে কনুইয়ের ঠেকা দিয়ে ঘাড় সোজা করে পিঠ মাটিতে রাখ ও পা ছড়িয়ে দিন।


এই আসন অভ্যাসকালে দম স্বাভাবিকভাবে নিতে ও ছাড়তে হয়।


পায়ের অবস্থান বদল করে এইভাবে ৪ বার অভ্যাস করুন। প্রতিবার অভ্যাসের পর শবাসন করতে হবে।


এই আসন অভ্যাসকালে মাথার নিচে একটা পাতলা বালিশ রাখলে ভাল হয়।

উপকারিতা


এই আসন উপেন্দ্র গ্রন্থিকে (প্যারাথাইরয়েড) সঞ্চারিত করে। ইহা সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রা-এর অনুপূরক এবং সেই জন্যেই সর্বাঙ্গাসন-এর পরই মৎস্যাসন অভ্যাস একান্ত আবশ্যক।


সর্বাঙ্গাসন অভ্যাসের দরুন ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব মৎস্যাসনে দূর হয়। এই আসন পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।


পায়রার বুকের মত বুক যাদের, তারা এই আসন কিছুদিন অভ্যাস করলে, তাদের বুকের গঠন স্বাভাবিক হয়। ইহা শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে। এই আসন হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।