এই আসন-এ অবস্থানকালে হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলি ময়ূরের পায়ের পাতা ও আঙ্গুলের মত দেখায় এবং যখন মাথা ও পা তুলে আসন অভ্যাসকারীর দেহ ভূমির সমান্তরাল করা হয় তখন আসন অভ্যাসকারীকে অনেকটা ময়ূরের মত দেখায়—তাই মনে হয়—এই আসন-এর নাম হয়েছে ময়ূরাসন।

প্রণালী


হাঁটু গেড়ে বজ্রাসন-এ বসুন। এবার হাঁটু থেকে প্রায় এক হাত দূরে দু হাতের তালু মাটিতে এমনভাবে রাখুন যাতে হাতের আঙ্গুলগুলি হাঁটুর দিকে থাকে। এখন দু হাতের কনুই ভেঙে নাভির দুপাশে রাখুন।


এইবার দম গভীরভাবে নিয়ে তলপেট শক্ত করে প্রথমে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ুন। মাথা মাটিতে ঠেকান এবং সঙ্গে সঙ্গে দম বন্ধ করে তলপেটের পেশী আগের মত শক্ত রেখে পা দুটি আস্তে আস্তে একটির পর একটি প্রসারিত করে পা দুটি সংযুক্ত করুন ও মাথা মাটি থেকে উপরে তুলুন।


এই অবস্থায় ৫০ নং ছবির মত দেহের ভার কনুইয়ের ওপর সামনে ও পিছনে সমানভাবে ভাগ করে দিন এবং দেহ সরল ও ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল রেখে এই আসন-এ সাধ্যমত ৫ সেকেন্ড থেকে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকতে পারেন।


এই ভাবে এই আসন ৪/৫ বার অভ্যাস করতে পারেন। প্রতিবার অভ্যাসের পর চিৎ হয়ে শুয়ে ১৫/৩০ সেকেন্ড শবাসন করতে হবে।


উপকারিতা


এই আসন অভ্যাসে মলদ্বারের পেশী সঙ্কুচিত হয়, ফলে তলপেটে আভ্যন্তরীণ চাপ পড়ে এবং তলপেটের প্রধান রক্তবাহী শিরা আংশিকভাবে রুদ্ধ হওয়ায় পাকস্থলী, যকৃত, প্লীহা এবং এড্রিনাল গ্রন্থিগুলিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।


ফলে এইগুলি সবল ও অধিক কর্মক্ষম হওয়ায় উদরী, প্লীহা ও অজীর্ণাদি যাবতীয় পীড়ার আশু বিনাশ হয়। ইহা ছাড়া বাত, পিত্ত ও কফ্ জনিত ত্রিদোষ দূরীভূত হওয়ায় পরিপাকশক্তি এত বৃদ্ধি পায় যে—যে কোন খাদ্যবস্তু সহজে হজম হয়।


এই আসন অভ্যাসকারী যে কোন কুখাদ্য ভোজন করলে হজম করতে পারে। এই আসন-এ কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত পেশী অধিক পুষ্ট ও দৃঢ় হয়।


ময়ূরাসন মেয়েদের অভ্যাস করা উচিত নয়।