পদহস্তাসন পশ্চিমোত্তানাসন-এর প্রকার ভেদ। দাঁড়িয়ে পশ্চিমোত্তানাসন করলেই পদহস্তাসন হয়।

এই আসন অভ্যাসে বিশেষ করে পদ ও হস্তের পেশী ও স্নায়ুমন্ডলীকে সুস্থ করে, তাই এই আসন-এর নাম পদহস্তাসন।

প্রণালী


বুক চিতিয়ে দেহ টান করে ‘প্রস্তুত' (অ্যাটেনসন) অবস্থানের মতো পা জোড়া করে দাঁড়ান এবং দম নিতে নিতে হাত দুটি কানের সঙ্গে চেপে মাথার উপর তুলুন।


এইবার দম ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে উপরের শরীর সামনে বেঁকিয়ে দু'হাতের তালু দু পায়ের দু পাশে মাটিতে রাখুন।


এইবার ৩৯ নং ছবির মত কপাল হাঁটুতে ঠেকান। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে দম নিন ও ছাড়ুন।


প্রথম প্রথম অভ্যাসকারীদের পক্ষে এমন করা কঠিন। এই সময় হাঁটু প্রয়োজনমত ভেঙ্গে অভ্যাস করতে পারেন। তবে কয়েকদিন চেষ্টা করলে হাঁটু সোজা রেখে অভ্যাস করা সহজ হয়ে যায়।


প্রথম প্রথম সামর্থ্যানুযায়ী ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড এই আসন-এ থেকে দম নিতে নিতে হাতসহ কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ উপরে তুলে আগের মত সোজা হয়ে দাঁড়ান। পরে দম ছাড়তে ছাড়তে হাত নামান।


এইভাবে ৫/৬ বার অভ্যাসের পর ১ মিনিট আসন করুন।


এই আসন অভ্যাসকালে যাতে হাঁটু না ভাঙ্গে—সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।


মোটা ব্যক্তিদের প্রথম প্রথম অসুবিধা হলেও নিয়মিত অভ্যাসে সহজ সাধ্য হবে। তারা প্রয়োজনে দু পায়ের গোছ ধরে অভ্যাস করবেন।


উপকারিতা


এই আসন-এ তলপেটের সংকোচনের দরুন পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


এছাড়া এ আসন-এ মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে এবং দেহের অসামঞ্জস্যতা দুর করে অর্থাৎ যাদের নিচের অঙ্গ উপরের অঙ্গের চেয়ে ছোট, তারা এই আসন কিছুদিন অভ্যাস করলে সহজেই দেহের সামঞ্জস্যতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।


এই আসন উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক। রক্তাল্পতা রোগী রোজ প্রতিবারে ১০ সেকেন্ড করে এই আসন ৪ বার অভ্যাস করবেন।


প্রতিবার অভ্যাসের পর ১০ সেকেন্ড করে শবাসন অভ্যাস করলে রক্তাল্পতা সহজে নিরাময় হয়।


উচ্চ রক্ত চাপাক্রান্ত রোগীদের এই আসনের পর শবাসন অভ্যাস করা নিষেধ।