যে আসন-এ দেহের সমস্ত ভার মাথার উপরে রেখে দেহকে দাঁড় করানো হয়, সেই আসন-এর নাম শীর্ষাসন।

প্রণালী


হাঁটু গেড়ে বসুন। কনুই থেকে দু হাতের তালু ত্রিভূজের মতো মাটিতে রেখে দু'হাতের আঙ্গুলগুলো দৃঢ়ভাবে ধরুন। এইবার মাথার ব্রহ্ম-তালু হাতের ফাঁকে মাটিতে রাখুন।


পরে দম নিতে নিতে ভাঁজ করা হাঁটু দু’টির সঙ্গে কোমর উপরে তুলুন এবং সঙ্গে সঙ্গে ৭০ নং ছবির মত পা দুটি জোড়া অবস্থায় প্রসারিত করুন এবং দম ছাড়ুন।


এই অবস্থায় যাতে মাথা, ঘাড়, পিঠ ও পা এক সরল রেখায় থাকে এবং দেহের ওজন যাতে মাথার ব্রহ্ম-তালুর উপর পড়ে— সেদিকে দৃষ্টি রাখুন। কোমর, হাত ও কনুইয়ের উপর দেহের ভারসাম্য—‘ব্যালেন্স' থাকবে।


প্রথম প্রথম এই আসন অভ্যাস করা শক্ত। এই সময় কারো সাহায্য নিয়ে বা দেওয়ালের সামনে অভ্যাস করলে ভাল হয়।


নিয়মিত অভ্যাসের দরুন দেহের ভারসাম্য যত বৃদ্ধি পাবে ততই ব্রহ্ম তালুর উপরের চাপ ক্রমশঃ হ্রাস পাবে।


এই আসন প্রথমে প্রতিবারে ১০ সেকেন্ড করে আরম্ভ ক'রে ১০/২০/৩০/৪০/৫০/৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত মোট ৪ বার অভ্যাস করতে হবে।


এই আসন প্রতিবার অভ্যাস করার পর দম ছাড়তে ছাড়তে পা দুটি ভাঁজ করে হাঁটু বুকে লাগিয়ে ধীরে ধীরে পা নামান।


শীর্ষাসনের পর শবাসন অভ্যাস করা নিষেধ।


এই ক্রিয়া শেষে প্রথমে অল্পক্ষণ বজ্রাসন-এ তারপর ধীরে ধীরে হাঁটাচলা করা ভাল। খুব প্রয়োজন হলে শবাসন করবেন।


উপকারিতা


এই আসন-এ সমস্ত স্নায়ুর, বিশেষ করে স্নায়ুকেন্দ্র মস্তিষ্কের উপযুক্ত ব্যায়াম হয়। ফলে মস্তিষ্ক পরিচালনার শক্তি বৃদ্ধি পায়।


মস্তিষ্ক দেহের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদযন্ত্র মাধ্যকর্ষণশক্তির বিরুদ্ধে ওই স্থানে প্রচুর রক্ত পাঠাতে পারে না। কিন্তু এই আসন অভ্যাসকালে মস্তিষ্ক হৃদযন্ত্রের নিচে আসায় অনায়াসে এই অঙ্গে প্রচুর রক্ত পাঠানো সম্ভব হয়।


এ ছাড়া মলভাণ্ড বিপরীতমুখী হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা দুর হয়। মস্তিষ্ক রক্তস্নাত হওয়ায় জিহ্বার লালা নিঃসরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং হজম শক্তি বাড়ে।


এই আসন অভ্যাসে সাইনাস, বহুমূত্র, অর্শ, অজীর্ণ ও শুক্রতারল্য প্রভৃতি রোগ সারে। যোগশাস্ত্রমতে বৃদ্ধ বা বয়স্ক ব্যক্তিরা এই আসনটি নিয়মিত ১ বছর অভ্যাস করলে তাদের যৌবনের লক্ষণ আবার ফিরে আসে।


যাদের স্পন্‌ডিলাইটিস্, পিত্ত প্রধান ধাত এবং চোখ, কান বা দাঁতের অসুখ আছে অথবা যাদের রক্তের চাপ উচ্চ (হাই ব্লাড্‌ প্রেসার) তাদের এই আসন অভ্যাস করা নিষিদ্ধ।


অনেক ক্ষেত্রে চক্ষু রোগে এই আসন বিশেষ উপকার করে। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অভ্যাস করা উচিত।