উড্ডীয়ান
দম সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়ে পেটের পেশী ভিতরে টেনে নিলে পেটের মধ্যে যে গর্ত হয়, তাকে চলতি কথায় উড্ডীয়ান বলে। উড্ডীয়ান এবং নৌলি কীভাবে অভ্যাস করতে হয়, বলা বা লেখার চেয়ে দেখানো সহজ।
সম্ভব হলে এই উড্ডীয়ান এবং নৌলি কারও কাছ থেকে দেখে, শিখে নিলে তাড়াতাড়ি সহজে শেখা যায়। ভোর বেলা মলত্যাগের পর খালি পেটে এই উড্ডীয়ান এবং নৌলি অভ্যাস করলে সহজে আয়ত্তে আনা যায়।
প্রণালী
পা প্রায় দেড় ফুট ফাঁক করে জানুর উপর দুহাত রেখে কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ সামনে বেঁকিয়ে ৭১ নং ছবির মত দাঁড়ান।
এইবার দম ছেড়ে দিয়ে নাভিদেশ ও পেটের পেশী এবং আমাদের মধ্যচ্ছদাকে ৭১ নং ছবির মত যতদূর সম্ভব ভিতরে টেনে মেরুদণ্ডের সঙ্গে লাগাতে চেষ্টা করুন এবং বুকের পেশী উপর দিকে তুলুন। এই সময় পেটের পেশী যাতে শিথিল থাকে সেদিকে দৃষ্টি রাখুন।
১০/২০ সেকেন্ড এই আসন অভ্যাস করার পর পেটের কুঞ্চন ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে দম নিন। এই আসনটি প্রতিবার ১০/২০ সেকেন্ড করে প্রথম প্রথম ২/৩ বার অভ্যাস করে পরে ক্রমান্বয়ে ৭/৮ বার অভ্যাস করা দরকার।
অভ্যাসের পর ১ মিনিট শবাসন অভ্যাস করতে হয়। প্রথম শিক্ষার্থীরা এই আসন শুয়েও অভ্যাস করতে পারেন।
১০/১২ বছর না হলে ছেলেদের, ঋতু সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি এমন মেয়েদের, যাদের হৃৎপিণ্ড দুর্বল এবং যাদের তলপেটে কোন কঠিন রোগ আছে, তাদের এই উড্ডীয়ান অভ্যাস করা নিষেধ।
উপকারিতা
উড্ডীয়ান তলপেটের উৎকৃষ্ট ব্যায়াম—কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণতা ও যকৃতের পীড়া উড্ডীয়ানে দ্রুত নিরাময় হয়। এই ক্রিয়া পাকস্থলী, ক্ষুদ্র অস্ত্র ও বৃহদন্ত্র ইত্যাদি পরিপাক যন্ত্রের উত্তম ব্যায়াম।
বৃহদন্ত্র ও ক্ষুদ্র অস্ত্র সঙ্কুচিত হওয়ায় মলাদি মলভান্ডে সহজে প্রেরিত হয় এবং অন্ত্র ও মলভাণ্ডের গায়ে অজীর্ণ ও দূষিত পদার্থ জমতে না পারায় কোষ্ঠবদ্ধতা, আমাশয়, অন্ত্রক্ষত, অর্শ, ভগন্দর, অ্যাপেন্ডিসাইটিস প্রভৃতি হয় না।
যাদের সকালে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় না, তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে লবণ ও পাতিলেবুর রস মিশ্রিত এক গ্লাস হালকা পানি পান করে এই উড্ডীয়ান কয়েকবার অভ্যাস করলে মলত্যাগের বেগ আসে। এই মুদ্রা অভ্যাসে যৌন মিলনের ধারণ-শক্তি বৃদ্ধি পায়।
উড্ডীয়ান রোজ অভ্যাস করলে বৃদ্ধ বয়সেও তরুণদের মতো কর্মক্ষম হন।
