যোগীনাথ মৎস্যেন্দ্রনাথ যে আসন (পূর্ণ মৎস্যেন্দ্রাসন) আবিষ্কার করেন তা অভ্যাস করা কষ্টকর। সেই জন্য এই আসন একটু পরিবর্তন করে অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন নামে প্রচলিত হয়েছে।

প্রণালী


পা দুটি সামনে ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এইবার ডান হাঁটু থেকে ভেঙ্গে ডান পায়ের গোড়ালি সীবনীর (মলদ্বার ও অণ্ডকোষদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত—–— পেরিনিয়াম) উপর বাঁ হাত দিয়ে চেপে ধরুন (ডান হাতে অণ্ডকোষ তুলে বাঁ হাতে ডান গোড়ালি সীবনীতে লাগানো নিরাপদ)।


এখন বাঁ পা ডান পায়ের ডান দিকে এনে খাড়াভাবে মাটিতে রাখুন। তারপর ডান হাত দিয়ে ডান হাঁটু শক্ত করে ধরুন।


এইবার বাঁ হাত বাঁ দিক দিয়ে ডান দিকের কুঁচকির কাছে নিয়ে গিয়ে পিঠ, মাথা ও ঘাড় ৪৪ নং ছবির মত যতদূর সম্ভব বাঁ দিকে ঘোরান।


এই অবস্থায় শরীর শিথিল করে ২০/৩০ সেকেন্ড থাকার পর হাত ও পা ছড়িয়ে দিন।


এখন বাঁ পা বাঁ হাঁটু থেকে ভেঙ্গে বাঁ পায়ের গোড়ালি ঠিক আগের মত করে সীবনীতে ঠেকান এবং সঙ্গে সঙ্গে ডান পা বাঁ দিকে এনে খাড়াভাবে মাটিতে রাখুন।


তারপর বাঁ হাত দিয়ে ডান হাঁটু বগলে চেপে ধরে বাঁ হাত দিয়ে বাঁ হাঁটু শক্ত করে ধরুন। এইবার ডান হাত ডান দিক দিয়ে বাঁ দিকের কুঁচকির কাছে নিয়ে গিয়ে পিঠ, মাথা ও ঘাড় ৪৫ নং ছবির মত যতদূর সম্ভব ডান দিকে ঘোরান।


এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থেকে পা ছড়িয়ে দিন।


এই আসন প্রতিবারে ৩০ সেকেন্ড করে প্রতি দিকে ২ বার করে উভয় দিকে ৪ বার অভ্যাস করুন।

উপকারিতা


এই আসন-এ মেরুদণ্ডের উত্তম ব্যায়াম হয়। আমার মনে হয় আজ পর্যন্ত দেশী বিদেশী যত রকম মেরুদণ্ডের ব্যায়াম আবিষ্কৃত হয়েছে, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ।


মেরুদণ্ডের অন্যান্য ব্যায়ামগুলো অভ্যাসে, হয় মেরুদণ্ডের উপরের, না হয় মাঝের নয়তো নিচের কশেরুকা সামনে, পিছনে বা পাশে বাঁকানোর দরুন ওই কয়েকটি কশেরুকার ভাল ব্যায়াম হওয়ায় কেবল এদের মধ্যে রক্ত চলাচল অধিক বৃদ্ধি পায়। অন্যগুলির তেমন বিশেষ উপকার হয় না।


অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন কেবলমাত্র একটি আসন যা অভ্যাস করলে মেরুদণ্ডস্থিত ৩৩টি কশেরুকার (পূর্ণ বয়স্কদের বেলায় ২৬টি কশেরুকার) মধ্যে এবং তৎসংলগ্ন স্নায়ুগুলিতে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত হয়। ফলে এগুলোর কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং এগুলো অধিক বয়স পর্যন্ত যৌবনোচিত, নমনীয় ও সবল থাকে।


এই আসন অভ্যাসে কটিবাত, পৃষ্ঠবাত, কোষ্ঠবদ্ধতা ও অজীর্ণ নিরাময় হয়। এটি উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।



এছাড়া ভুজংগাসন, উষ্ট্রাসনঅর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন নিয়মিত অভ্যাসে স্পনডিলাইটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।