ধনুরাসন
এই আসন-এ দেহ ধনুকের আকার ধারণ করে, তাই এই আসন-এর নাম ধনুরাসন।
প্রণালী
শরীর শিথিল ক'রে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এইবার পা দু'টি হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে পিঠের কাছে আনুন এবং দু'হাত দিয়ে গোড়ালি শক্ত করে ধরুন। প্রথম অভ্যাসকারী হাঁটু সাধ্যমত ১০/১২ ইঞ্চি ফাঁক করবেন।
এখন হাত দিয়ে গোড়ালি টেনে উপরে তুলুন এবং তলপেট কেবলমাত্র ভূমি সংলগ্ন রেখে বুক ও হাঁটু যতদূর সম্ভব মাটি থেকে তুলে শরীরটাকে ৩৪ নং ছবির মত পিছন দিকে ধনুকের মত বাঁকান।
এই অবস্থায় সমস্ত শরীর শবাসন-এর মত শিথিল করে ২০/৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থায় ফিরে যান এবং ১০ সেকেন্ড শবাসন-এ বিশ্রাম করুন।
এইভাবে ৪ বার অভ্যাস করুন। পরে হাঁটু ও গোড়ালি একত্রে রেখে অভ্যাস করবেন।
উপকারিতা
এই আসন-এ কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয়, যকৃতের কাজ ভাল হয়, পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়, মেরুদণ্ড নমনীয় করে, বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে।
যারা সম্ভবতঃ কোলকুঁজো, তারা এই আসন অভ্যাস করলে মেরুদণ্ড সোজা হওয়ার দরুন স্বাভাবিক অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
ভুজংগাসন, শলভাসন ও ধনুরাসন এই তিনটি মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ আসন। ভুজংগাসন মেরুদণ্ডের উপরের অংশ, শলভাসন মেরুদণ্ডের নীচের অংশ ও ধনুরাসন মেরুদণ্ডের মধ্যভাগকে নমনীয় করে এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্তুগুলিকে অধিক কর্মক্ষম করে। এডরেনাল গ্রন্থিকে অধিক কর্মক্ষম করে।
ধনুরাসন অভ্যাসের পর চক্রাসন অভ্যাস একান্ত প্রয়োজন।
