কুম্ভক ছাড়া পুরকরেচকসহ যে প্রাণায়াম তাকেই সহজ প্রাণায়াম বলে। এই প্রাণায়াম অভ্যাসে একটু ভুলত্রুটি হলেও কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে না।

এই কারণে বালক, বৃদ্ধ এমন কি দুর্বল রোগীরা পর্যন্ত এই প্রাণায়াম অভ্যাস করতে পারে। সহজ প্রাণায়াম বহুপ্রকার, তন্মধ্যে মাত্র সাতটির অভ্যাসবিধি এই পরিচ্ছেদে দেওয়া হলো।



(১)


প্রণালী


যে কোনো ধ্যানাসন-এ বসে উভয় নাক দিয়ে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করুন। এবং সম্পূর্ণ পুরক শেষে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে বায়ু ত্যাগ বা রেচক করুন।


ঠিক এই রকমভাবে নিজ নিজ সামর্থ্যমত ৫/১০ মিনিট ধরে উভয় নাকি দিয়ে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করুন ও মুখ দিয়ে ত্যাগ বা রেচক করুন।


উপকারিতা


এই প্রাণায়াম অভ্যাসে ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত সুস্থ সবল হওয়ায়, এগুলো সহজে রোগাক্রান্ত হয় না।


                                                                (২)


প্রণালী


যে কোনো ধ্যানাসন-এ মেরুদণ্ড সরল ও সোজা রেখে বসে চিবুক ঊর্ধ্বে তুলে উভয় নাক দিয়ে সশব্দে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করুন এবং পুরক শেষে চিবুক কণ্ঠকূপে নিবদ্ধ করে সশব্দে উভয় নাক দিয়ে বায়ু ত্যাগ বা রেচক করুন।


ঠিক এইরকম ভাবে নিজ নিজ সামর্থ্যমত ৫/১০ মিনিট এই প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।


উপকারিতা


এই প্রাণায়াম অভ্যাসে সর্দি কাশি নিরাময় হয় এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগাক্রমণের প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধি পায়।


                                                                (৩)


প্রণালী


যে কোনো ধ্যানাসন-এ বসে সাধ্যমত অনেকক্ষণ ধরে উভয় নাক দিয়ে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করুন। এরপর মুখের পেশী ও স্নায়ুর উপর জোর দিয়ে মুখ হা করে বেশ জোরের সঙ্গে বায়ু ত্যাগ বা রেচক করুন।


ঠিক এইরকম ভাবে নিজ নিজ সামর্থ্যমত ৫/১০ মিনিট এই প্রক্রিয়াটি অভ্যাস করুন।


উপকারিতা


এই প্রাণায়াম অভ্যাস সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের কন্ঠস্বরের মিষ্টতা বজায় রাখতে এবং কন্ঠের কম্পনাদি আয়ত্ত করতে সাহায্য করে।


                                                                (8)


প্রণালী


যে কোনো ধ্যানাসন-এ বসে রেচক দ্বারা পেট বায়ুশূন্য করুন। এখন পেট ও নাভিপ্রদেশকে যথাসাধ্য পিছনে আকুঞ্চন করতে করতে উভয় নাক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ বা পুরক করতে থাকুন।


শ্বাস গ্রহণ করা শেষ হলে শ্বাস ত্যাগের বা রেচক-এর সঙ্গে সঙ্গে পেট ও নাভি প্রদেশের আকুঞ্চনও শিথিল করে দিন।


ঠিক এইরকমভাবে ৫/১০ মিনিট অভ্যাস কর।


উপকারিতা


এই প্রাণায়াম অভ্যাসে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে অজীর্ণতা দুর করে এবং পেটের স্নায়ু ও পেশীগুলোকে সবল করে পেটে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমতে দেয় না। মধ্যচ্ছদার (মানবে দেহের অভ্যন্তরস্থ একটি পর্দা) কাজ ভাল হয়। হাঁপানি রোগীদের বিশেষ প্রয়োজন।


                                                                (৫)


সকালে ও সন্ধ্যায় মুক্ত স্থানে, মাঠে বা ধূলা ও ধোঁয়াবিহীন রাস্তায় মেরুদণ্ড সরল ও টান রেখে সোজা হয়ে হাঁটবেন। হাঁটার সময় প্রতি ৪ বার পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে ১, ২, ৩, ৪ উচ্চারণের সাথে সাথে উভয় নাকে দিয়ে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করবেন এবং পুরক শেষ হওয়া মাত্রই আবার ৪ বার পদক্ষেপের সঙ্গে আগের মত ১, ২, ৩, ৪ উচ্চারণের সাথে সাথে নাসিকা দিয়ে বায়ু ত্যাগ বা রেচক করবেন।


প্রথম প্রথম ৪ পদক্ষেপে বায়ু গ্রহণ বা পুরক এবং ৪ পদক্ষেপে বায়ু ত্যাগ বা রেচক করবেন। ৩/৪ সপ্তাহ এইরকমভাবে অভ্যাসের পর ৪ পদক্ষেপে বায়ু গ্রহণ বা পুরক এবং ৬/৮ পদক্ষেপে বায়ু ত্যাগ বা রেচক অভ্যাস করবেন।


এইভাবে হাঁটাকে ভ্রমণ প্রাণায়াম বলে। এই ভ্রমণ প্রাণায়াম নিজ নিজ সামর্থ্যানুযায়ী ১০/১৫ মিনিট অভ্যাস করবেন।


উপকারিতা


বয়স্ক লোকদের পক্ষে ভ্রমণ প্রাণায়াম বিশেষ উপকারী। এই প্রাণায়াম অভ্যাসে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রাদি অধিক কর্মক্ষম এবং রক্ত অধিকতর পরিশোধিত হয়।


রোগ নিরাময়ের ঠিক পরেই এই প্রাণায়াম অভ্যাসে রোগীর শারীরিক দুর্বলতা দূরীভূত হওয়ায় তার পক্ষে হৃত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা সহজ হয়।


(৬)


যে কোনও ধ্যানাসন-এ বসে নাক দিয়ে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করুন। এইবার অধর ও ওষ্ঠকে পাখির ঠোঁটের মতো সুরু করে সজোরে অথচ থেমে থেমে মুখ দিয়ে অল্প বায়ু ত্যাগ বা রেচক করুন। ঠিক এইভাবে প্রতিবার পুরকরেচক করে ৮/১০ বার এই প্রাণায়ামটি অভ্যাস করবেন।


উপকারিতা


উপরিউক্ত সহজ প্রাণায়াম অভ্যাসে বিভিন্ন রকমের কাশি, সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, প্লুরিসি, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড্ ও ইনফ্লুয়েঞ্জাদি বিংশতি রকমের রোগ নিরাময় হয়।


এই প্রাণায়াম অভ্যাসে মুখের যাবতীয় ব্যাধি—এমন কি পক্ষাঘাত পর্যন্ত নিরাময় হয়। মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

(৭)


সমস্ত শরীর শিথিল করে শবাসন-এ শয়ন করুন এবং অঙ্গুলিবদ্ধ করে দুহাত নাভির উপর রাখুন। এখন উভয় নাক দিয়ে ধীরে ধীরে বায়ু গ্রহণ বা পুরক করুন। পুরক সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বায়ু ত্যাগ বা রেচক করুন।


পুরককালে চিন্তা করবেন—বায়ুস্থ প্রাণশক্তি আমার দেহের মধ্যে প্রবেশ করে নাভিদেশে অবস্থিত সূর্যগ্রন্থিতে (প্যাংক্রিয়াস গ্ল্যান্ড) সঞ্চিত হচ্ছে এবং রেচককালে চিন্তা করবেন—সূর্যগ্রন্থিতে সঞ্চিত প্রাণ-শক্তি দেহের প্রতি রন্ধ্রে গ্রন্থি, স্নায়ু এবং শিরা-উপশিরায় পরিব্যাপ্ত হ'য়ে সমস্ত দেহকে প্রাণবস্তু করে চলেছে এবং দেহে সঞ্চিত দুষিত পদার্থ এবং প্রাণধ্বংসী রোগ জীবাণু বের হয়ে যাচ্ছে।


উপরিউক্ত নির্দেশমত চিন্তা করতে করতে এই প্রাণায়ামটি নিজ সামর্থ্যমত ৫ থেকে ১০ মিনিট অভ্যাস করুন।


উপকারিতা


এই প্রাণায়াম অভ্যাসে দেহ নিরোগ হয় এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন বলিষ্ঠ মন গঠনে সহায়তা করে।