যে কোন ধ্যানাসন (বজ্রাসন বা পদ্মাসন) এ মেরুদণ্ড সোজা অথচ শিথিল রেখে (চোখ বন্ধ থাকলে ভাল হয়) স্বাভাবিক অবস্থায় বসতে হবে।

এর পর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ডান নাকে এবং কনিষ্ঠ ও অনামিকাঙ্গুলিদ্বয় একত্রে বাঁ নাকের কাছে নিয়ে যাও।


তর্জনি এবং মধ্য অঙ্গুলিদ্বয় ৭৫ নং ছবির মত একত্রে হাতের তালু স্পর্শ করবে।

প্রথমে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ডান নাক চেপে খুব ধীরে ধীরে ৭৬ নং ছবির মত বাঁ নাক দিয়ে দম নিতে নিতে ফুসফুস যতটা সম্ভব ফোলাতে চেষ্টা করবে—অর্থাৎ পুরক করতে হবে। পুরক-এর ঠিক পরই দুটি আঙ্গুল দিয়ে বাঁ নাক চেপে ডান নাক দিয়ে ধীরে ধীরে রেচক বা দম ছাড়তে হবে।


রেচক-এর পরই ডান নাক দিয়েই পুরক করে বাঁ নাক দিয়ে রেচক করতে হবে। এইরূপ ভাবে প্রতি নাকে ৩/৪ বার করে উভয় নাকে ৬ থেকে ৮ বার অভ্যাস করতে হবে।


পরে সামর্থ্য মত প্রতি নাকে ১০/১২ বার করে অভ্যাস করতে হবে।


এখন লক্ষ্য রাখতে হবে দম নেওয়া এবং ছাড়ার সময় যেন নাকে বা গলায় কোন আওয়াজ না হয়। আরও লক্ষ্য রাখতে হবে ১: ২ রেশিওতে যেন দম নেওয়া এবং ছাড়া হয়।


অর্থাৎ যত সময় ধরে দম নেওয়া হবে তার দ্বিগুণ সময় ধরে দম ছাড়তে হবে। প্রথম শিক্ষার্থীর পক্ষে ইহা সহজে আয়ত্তে আনা শক্ত। আয়ত্তে আনতে কিছুদিন সময় লাগবে।


পুরককুম্ভক এবং রেচক এই তিন পদ্ধতির রেশিও যথাক্রমে ১:২: ২ বা ২: ১ : ৪ এইভাবে অভ্যাস করতে হবে।


অর্থাৎ যতক্ষণ পুরক তার দ্বিগুণ সময় ধরে রেচক করতে হবে। কিন্তু কুম্ভক-এর সময় নিজের সামর্থ্য মত ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে।


তবে আমার মনে হয় গৃহীদের পক্ষে কুম্ভক অভ্যাস না করাই উচিত। যদি কেউ অভ্যাস করতে চায় তবে গুরুর নিকটে গিয়ে হাতে কলমে এই প্রাণায়াম-এর সম্পূর্ণ পদ্ধতি শিখবেন। বই পড়ে বা ওয়েবসাইট দেখে কুম্ভক অভ্যাস করা উচিত নয়।


উপকারিতা

নাড়ী শোধন প্রাণায়াম অভ্যাসের ফলে প্রাণায়াম অভ্যাসকারী খুব সহজেই যে কোন প্রাণায়াম অভ্যাসের পদ্ধতি সহজেই আয়ত্ত করতে পারবে। দেহের প্রাণশক্তি বৃদ্ধি করে এবং জরা, ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর হাত থেকে দেহকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য প্রাণায়াম করা হয়।