বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যোগচিকিৎসা
বোম্বাই শহরের অনতিদূরে লোনাভালায় স্বামী কুবলয়ানন্দের এবং ঐ শহরের সান্তাক্রুজে শ্রীযোগেন্দ্রের যোগ গবেষণা ও চিকিৎসাকেন্দ্র আছে। সেখানে অসংখ্য রোগী যোগব্যায়ামের সাহায্যে চিকিৎসিত হয়ে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া সেখানে অনেক বিজ্ঞ চিকিৎসক মুনি-ঋষিদের কথিত যোগব্যায়ামের মাধ্যমে রোগ-নিরাময় শক্তি সম্বন্ধে গবেষণায় রত আছেন।
ভারত সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় ও সাহায্যে স্বামী কুবলয়ানন্দ ও ডঃ এস, এল, ভিনিকার প্রণীত “যৌগিক থেরাপি” যোগগবেষণাপূর্ণ একটি অমূল্য পুস্তক। আমরা আশা করি—তাঁদের এই গবেষণার ফলাফল চিকিৎসা জগতে নূতন দিগন্তের সূচনা করবে। এবং সাধারণ যোগব্যায়াম অভ্যাসকারীদের জ্ঞানের পরিধি অনেক বৃদ্ধি করবে।
১৯৭৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, ‘সমাচারে’ প্রচারিত সংবাদে প্রকাশিত হয় “রক্তের উচ্চচাপ কমাতে হলে ঔষধ না খেয়ে শবাসন করুন”। মুম্বাইয়ের একজন নামকরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এ কথা বলেছেন।
সেন্ট জর্জের হাসপাতালের ডাঃ কে, কে, দত্ত কমনওয়েলথ চিকিৎসা সম্মেলনে বলেন—“তিন মাস যৌগিক পদ্ধতিতে শবাসন অনুশীলন করে ৮৬ জন ব্লাডপ্রেসারের রোগী রক্তের চাপ কমিয়ে ফেলেছেন”।
স্বাস্থ্য রক্ষায় ও রোগ নিরাময়ে যোগ ব্যায়ামের অসীম ক্ষমতা দেখে ভারতের সর্বত্র যোগ ব্যায়ামের বহুল প্রচার শুরু হয়েছে। মুম্বাই, উত্তর প্রদেশ, কেরালা প্রভৃতি বহু স্থানে এই যোগব্যায়াম স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যরক্ষার ও দীর্ঘজীবন লাভের জন্য এবং তাদের অধিক কর্মক্ষম ও তাদের চরিত্র গঠন করবার জন্যে প্রবর্তিত হয়েছে।
এমন কি সুদূর আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ব্যায়াম অধ্যাপক স্বামী কুবলয়ানন্দের আশ্রমে এসে তাঁর তত্ত্বাবধানে যোগব্যায়াম শিক্ষা করে গিয়ে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অবশ্যকরণীয় ব্যায়াম পদ্ধতি হিসাবে প্রচলিত করেছেন।
কিছুদিন আগে জার্মানীর শরীর শিক্ষা কলেজের ভাইস চান্সেলর ও বিশ্বঅলিম্পিক সংঘের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ডাঃ কার্লড্রাম ভারত সফরে এসে কলকাতায় শরীর শিক্ষক সমিতির অভ্যর্থনা সভায় মুক্তকণ্ঠে যোগ ব্যায়ামের সুখ্যাতি করে গেছেন এবং নিজে এই বৃদ্ধ বয়সে এখনও রোজ কয়েকটি খালি হাতে ব্যায়াম-এর সঙ্গে সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন ও শীর্ষাসন অভ্যাস করেন তা স্বীকার করেছেন।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র তাঁর ‘ভারত পথিক' পুস্তকে নিজের জীবন আলোচনা করতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেছেন—'কতকগুলি যোগাসন এবং বিশেষ প্রক্রিয়া ও ধ্যানের সাহায্যে যৌন প্রবৃত্তির সংযম যৌবনে আমার কাছে সহজসাধ্য হয়ে এসেছিল।'
ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিকদের অন্যতম জওহরলাল নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে বলেছেন যে কারাগারে বন্দী থাকার সময় যোগব্যায়াম অভ্যাসে তিনি দেহ-মনে বিশেষ উপকৃত হয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে দিল্লীতে ভারত সেবা সঙ্ঘের বার্ষিক সভায় যে যোগাসন প্রদর্শনী হয়, সেই উৎসবে সভাপতি হিসাবে তিনি যে ভাষণ দেন— তাতে তিনি যোগব্যায়ামের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন এবং মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন যে, তিনি নিজে এবং তাঁর মন্ত্রীদের অনেকে প্রতিদিন যোগব্যায়াম অভ্যাস করেন বলেই তারা দৈনিক এতক্ষণ ধরে এত কঠিন পরিশ্রম করে রাষ্ট্রের সেবা করতে পারছেন।
