শশ মানে খরগোস এবং শশাংগ মানে খরগোসের দেহ। খরগোস ভয় পেলে মাথা নিচু করে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে। 


আসন-এ অবস্থানকালে আসনকারীর দেহ অনেকটা সেইরূপ দেখায়; তাই এই আসনের নাম শশাংগাসন। 

প্রণালী

হাঁটু গেড়ে বজ্রাসন-এ বসুন। দু'হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি চেপে ধরে এবং সঙ্গে সঙ্গে মাথা নুইয়ে হাঁটুর সামনে এনে মাথার তালু মাটিতে রেখে কপাল হাঁটুতে ঠেকান। আর পাছা উপরে তুলে ৪১ নং ছবির মত যতটা সম্ভব সামনে নিয়ে আসুন।  

এই অবস্থায় যাতে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত ধনুকের মত বাঁকা হয় এবং পিঠে ও পাঁজরায় বেশ টান পড়ে এবং পেটের পেশীগুলো সঙ্কুচিত হয়— সেদিকে দৃষ্টি রাখুন। আরও লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে চিবুক বুকে ঠেকে  এবং কণ্ঠনালীর উপর হাল্কা চাপ পড়ে। 

এই আসনটি প্রথম প্রথম ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করতে হয় এবং প্রতিবার অভ্যাসের পর ৩০ সেকেন্ড শবাসন করা প্রয়োজন।

উপকারিতা

এই আসন-এ মেরুদণ্ডের ৩২টি সংযোগস্থল প্রসারিত হওয়ায় এবং মেরুদণ্ডে লম্বালম্বি টান পড়ায়, এই অবস্থায় মেরুদণ্ড সবচেয়ে লম্বা হয়। এই আসন অভ্যাস করার আগে ও আসন অভ্যাসের সময় যদি মেরুদণ্ডের মাপ নেওয়া হয়, তাহলে দেখা যাবে—আসন করার সময় মেরুদণ্ড স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে প্রায় দুই ইঞ্চি বেড়েছে। 

খর্বকায় যুবকরা এই আসন অভ্যাসে লম্বা হয়। এই আসন-এ যকৃৎ ও প্লীহার কাজ ভাল হওয়ায় হজম শক্তি বাড়ে এবং থাইরয়েড ও পিটুইটারি গ্রন্থি ও প্যানক্রিয়াসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বহুমূত্র, অস্বাভাবিক স্থূলত্ব বা শীর্ণতা রোগ হয় না এবং শরীর যৌবনোচিত পুষ্টি লাভ করে। 

যারা অধিক বয়স বা স্থূলত্বের জন্য শীর্ষাসন অভ্যাস করতে পারেন না বা দুর্বল হৃৎপিণ্ডের জন্য যাদের শীর্ষাসন করা উচিত নয়, তাদের পক্ষে এই আসন বিশেষ উপকারী। এতে শীর্ষাসন-এর ফল অনেকটা পাওয়া যায়। এই আসন উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।

শশাংগাসন অভ্যাসের পর উষ্ট্রাসন ও অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন অভ্যাস করা একান্ত প্রয়োজন।