মোটা শরীর থেকে মুক্তিতে যোগব্যায়াম
মানুষ সাধারণতঃ যে তিনটি কারণে স্থূল বা মোটা হয়—তা হলো—(১) বংশধারা, (২) কয়েকটি প্রধান গ্রন্থির যথা শিবসতী গ্রন্থি (পিটুইটারী), ইন্দ্রগ্রন্থি (থাইরয়েড) ইত্যাদি গ্রন্থির নিষ্ক্রিয়তা ও ইন্দ্ৰগ্ৰন্থি হতে অল্পমাত্রায় রস ক্ষরিত হলে মানুষ স্থূল হয় আর অধিকমাত্রায় রস ক্ষরণে কৃশ বা চিকন হয় এবং (৩) আহার-বিহারে স্বাস্থ্য রক্ষায় সাধারণ নিয়ম না মানা। যে সব ছেলে-মেয়েদের বাপ-মায়ের বংশের চাচা, মামারা মোটা হন, সেই সব ছেলেমেয়েরা সাধারণত মোটা হয়।
আর মোটা হয় তারা, যারা শারীরিক পরিশ্রম বিমুখ, যারা অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য, যথা—ঘি, মাখন ইত্যাদি, অতিরিক্ত স্নেহ বা শর্করাজাতীয় খাদ্য, যথা— মদ, ঠাণ্ডাপানীয়, আইসক্রিম, ভাত, আলু ও মিষ্টি ইত্যাদি নিয়মিত অতিমাত্রায় গ্রহণ করে বা যারা ভোজনবিলাসী।
এছাড়া খাবার-দা্বারে অসংযমীদের জঠরাগ্নি দুর্বল হয়ে পড়ার দরুণ অগ্নিগ্রন্থি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে উপরে উল্লিখিত অন্যান্য গ্রন্থিগুলিও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
ফলে মেদ বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়। তাই সাধারণত মোটা মানুষরা দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য-সুখ ভোগ করতে পারে না এবং বাত, বহুমূত্র ইত্যাদি রোগে সহজে আক্রান্ত হয়।
নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাসের সাথে সাথে খাবার-দাবারে সংযমী হলেই সাধারণত স্থূলতা জয় করা যায়।
এই সাইটে প্রদত্ত ১২টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাসের পর ৩ মিনিট শবাসন অভ্যাস করুন।
এরপর শশাংগাসন, উষ্ট্রাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, পদহস্তাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন, কপালভাতি, উত্থিত পদাসন, সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রা ও মৎস্যাসন অভ্যাস করুন।
সবশেষে আবার ৫ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করতে হবে।
ব্যায়াম ও আসন অভ্যাসের সঙ্গে দৌড়ানো ও দড়িলাফানো (স্কিপিং) অভ্যাস করা যেতে পারে।
অন্যান্য উপকারিতা
মেরুদণ্ড সুস্থ ও সবল হয়।
থাইরয়েড ও পিটুইটারি গ্রন্থি ও প্যানক্রিয়াসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
বহুমূত্র বা ডায়বেটিস হয় না।হলে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শরীর যৌবনোচিত পুষ্টি লাভ করে।
বৃদ্ধ বয়সেও দেহ বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ত হয় না।
বুকের খাঁচার আকার বৃদ্ধি পায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যায়।
বীর্যধারণশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্তিস্খলন হ্রাস পায়।
হাঁপানি সেরে যায়।
কটিবাত, পৃষ্ঠবাত সেরে যায়।
স্পনডিলাইটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। হলে সেরে যায়।
পাকস্থলী, যকৃৎ, প্লিহা, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হয়।
ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
রক্তাল্পতা সহজে নিরাময় হয়।
যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
এডরেনাল গ্রন্থির এবং কিড্নির কাজ ভাল হয়।
কফ্ দোষ বিনষ্ট হয়, কপালে সর্দি জমতে পারে না।
সাইনাস্ থাকলে দ্রুত সেরে যায় এবং সাইনাস্ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
হৃদযন্ত্র সবল হয়।
কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকে।
কখনও হার্নিয়া হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ের হার্নিয়া থাকলে সেরে যায়।
স্বপ্নদোষ ও শুক্রহীনতা প্রভৃতি নিরাময় হয়।
পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।
বুকের খাঁচা বড় করে।
শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।
মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম বিশেষ প্রয়োজন।
