থাইরয়েডের সমস্যায় যোগব্যায়াম
অগণিত স্বাস্থ্য সুবিধার কারণে, মানুষ সারা বিশ্ব জুড়ে যোগ অনুশীলন করে। স্ট্রেস, ব্যথা এবং অন্যান্য জয়েন্ট এবং পেশী-সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত।
এই সুবিধাগুলো ছাড়াও, যোগব্যায়াম অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন কার্ডিয়াক এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্যও কার্যকর।হাইপোথাইরয়েডিজম বা আন্ডারঅ্যাক্টিভ থাইরয়েড একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যা বিশ্বব্যাপী সাধারণ। থাইরয়েড হলো গলার একটি ছোট গ্রন্থি যা হরমোন নিঃসরণ করে, যা শরীরের বিপাক, তাপমাত্রা এবং বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
থাইরয়েড গ্রন্থি যখন পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন তাকে ‘আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড’ বলে। এই অবস্থাটি ক্লান্তি, ঠাণ্ডা সংবেদনশীলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ত্বক এবং অব্যক্ত ওজন বৃদ্ধির মতো লক্ষণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
তাহলে থাইরয়েড কমানোর উপায় কি? অনেকে থাইরয়েডের ওষুধ খান নিয়মিত। কিন্তু সেক্ষেত্রে সারাজীবন ওষুধ খেতে হয়। ডাক্তারের কাছে যান। থাইরয়েড টেস্ট করুন। থাইরয়েড নরমাল কত জানুন। থাইরয়েড কমানোর খাবার সম্পর্কেও জানুন।
থাইরয়েড হলে কি কি ফল খাওয়া উচিত সেগুলোও গুগল করে জেনে নিন। থাইরয়েড নিষিদ্ধ খাবারগুলো জেনে নিন। সে অনুযায়ী সেগুলো পরিহার করুন।
যোগাসন গ্রন্থি সুস্থ এবং বিপাক বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এখানে থাইরয়েডের জন্য উপকারী পাঁচটি যোগাসন রয়েছে।
যোগচিকিৎসা
প্রথমে ওয়ার্ম আপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে ৬/৫টি ব্যায়াম করুন। তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন।
তারপর হলাসন, নৌকাসন, সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রা এবং বিপরীতকরণী মুদ্রা অভ্যাস করুন।
সবশেষে আবার ৫ মিনিট শবাসন করেন ব্যায়াম শেষ করুন।
অন্যান্য উপকারিতা
ব্যায়ামগুলো শরীরের প্রায় সবগুলো ফাংশন উন্নত করতেই সহায়ক।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
