ব্রংকাইটিস রোগে সাধারণত শ্লেষ্মা ঝিল্লী ফুলে ওঠে, চটচটে শ্লেষ্মা বের হতে থাকে, এবং গলা জ্বালা করে।

ঠান্ডা লাগা, পানিতে ভেজা, বেশি জোরে চিৎকার করা, অতিরিক্ত গান করা, ঠাণ্ডা জায়গায় বসা, গলার মধ্যে ধূলিকণা বা ধোঁয়া বেশি প্রবেশ করা এবং হঠাৎ ঋতু পরিবর্তন প্রভৃতি কারণে এই রোগ হয়।

যে সব জীবাণু এই রোগের কারণ তারা হলো স্ট্যাফাইলোকক্কাস ও নিউমো কক্কাস।


সর্দি, অল্পজ্বর, কাশি, গলাভাঙ্গা বা গলা সুড়সুড় করা, গলায় সাঁই সাঁই শব্দ করা এবং শুষ্ক কঠিন কাশি প্রভৃতি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। অনেক সময়ে জ্বরের সঙ্গে ক্ষুধামান্দ্য, গা বমি করা, ঘন ঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি লক্ষণও দেখা যায়।


মুখমণ্ডল লাল হয়ে ওঠে। গলায় ব্যথা ও চক্ষু রক্তবর্ণ হয়। ব্রংকাইটিস থেকে অনেক সময় ব্রংকোনিউমোনিয়া হতে পারে।


এই রোগ পুরাতন হলে নিয়ত কাশি, ব্রংকাসের প্রদাহ, শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট, বুকে সাঁই সাঁই শব্দ প্রভৃতি দেখা দেয়, এবং শেষে হাঁপানিতে পরিণত হতে পারে।


এই রোগে গরম পানি, গরম চা ও গরম দুধ পান করলে বিশেষ উপকার হয়। মাঝে মাঝে লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানিতে কুলকুচা করলে এই রোগের অনেকটা উপশম হয়।


যোগ চিকিৎসা


সকালে ২ চামচ মধু, ২ চামচ চ্যবনপ্রাশসহ সেবন—এই রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। রোগীর কোষ্ঠ যাতে পরিষ্কার থাকে সে দিকে দৃষ্টি রাখা উচিত। এজন্য ভোরে সহজ বস্তিক্রিয়া অভ্যাস করা যেতে পারে। 


ব্রংকাইটিস রোগের প্রথম অবস্থায় এই সাইটে প্রদত্ত কয়েকটি খালি হাতে ব্যায়াম নং ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৮ মুক্ত স্থানে অভ্যাস করার সাথে সাথে সহজ প্রাণায়াম (যেকোনো একটি ), ভস্ত্রিকা, উজ্জায়ী প্রাণায়াম অভ্যাস করবেন।


এছাড়া, সকালে ও বিকালে মুক্তস্থানে ভ্রমণ প্রাণায়াম অভ্যাস করলে এই রোগ সহজে নিরাময় হয়।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।