জয়েন্টের ব্যথায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন বাড়ছে। প্রায় প্রতি পরিবারেই এমন একজন মানুষ আপনি পেয়েই যাঁর অস্থিসন্ধিতে ব্যথা রয়েছে।

জয়েন্টের ব্যথা খুবই ভয়ঙ্কর এক সমস্যা। এই অসুখ দেখা দিলে আপনাকে অবশ্যই হতে হবে সতর্ক। এই পরিস্থিতিতে এমন কোনও কাজ করা যাবে না যাতে এই যন্ত্রণা আরও বাড়ে।


আমাদের শরীরে ৩০৭টি জয়েন্ট রয়েছে। যখন কেবল একটি জয়েন্ট আক্রান্ত হয়, তখন আমরা মনোআর্টিকুলার  জয়েন্ট পেইন বলি। যখন পাঁচটির নিচে জয়েন্ট যুক্ত হয়, তখন আমরা অরিগোআর্টিকুলার বলি। এর বেশি গেলে আমরা তখন পলিগোআর্টিকুলার বলি।


জয়েন্ট আক্রমণের ধরনের ওপর আমাদের এক এক ধরনের রোগ রয়েছে। মনোআর্টিকুলারের ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি প্রদাহের কারণে হতে পারে। কখনো কখনো এটি সংক্রমণের কারণে হতে পারে। যেমন, সেপটিক আর্থ্রাইটিস আমরা বলি। কখনো কখনো টিবির কারণে হতে পারে।


অনেক সময় দুর্ঘটনা বা আঘাতের কারণে ব্যথা হতে পারে। অনেকের হয়তো হিমোফেলিয়া রোগ রয়েছে। এদের ক্ষেত্রে দেখা যায় একটু হাঁটাহাঁটি করার কারণে জয়েন্টে হয়তো রক্ত জমে গেছে। এই ক্ষেত্রে তারা একটি জয়েন্টে ব্যথা নিয়ে আসতে পারে।


অনেক সময় আঘাত লাগার জন্য সাময়িকভাবে একটি গিঁড়ার মধ্যে ব্যথা হতে পারে। আবার যখন অনেকগুলো জয়েন্ট একসঙ্গে হয়, তখন আমাদের একটু চিন্তা করতে হয় যে অন্যান্য কোনো সমস্যা রয়েছে কি না।


এ ক্ষেত্রে একে অনেকভাবে ভাগ করা হয়।  যেমন, সংক্রমণজাতীয় কিছু কারণ রয়েছে। ভাইরাস একটি কারণ। কিছুদিন আগে আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে চিকুনগুনিয়া আরথ্রাইটিস হলো। এতে অনেক জয়েন্ট যুক্ত হয়ে গেল। 


ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রেও জয়েন্টে ব্যথা নিয়ে আসতে পারে। এমনকি লিউকোমিয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের কাছে জয়েন্টে ব্যথা নিয়ে আসতে পারে। 


আবার কখনো কখনো গনোকক্কাল ইনফেকশনের কারণে এমন হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও জয়েন্টে ব্যথা নিয়ে আসতে পারে।


রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস একটি রোগ রয়েছে, যার ক্ষেত্রে প্রদাহ এক একটি জয়েন্টকে আক্রান্ত করে। রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস যদি হয়, আমরা দেখি দুই হাতের আঙুলের জয়েন্টগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। পাশাপাশি পায়ের জয়েন্টগুলোকে আক্রান্ত করে।


আবার স্পনডাইলোআরথ্রাইটিস রয়েছে। এখানে দেখা যায় যে মেরুদণ্ড, সঙ্গে নিচের পায়ের বড় বড় জয়েন্ট, হাঁটু, গোড়ালি, পৃষ্ঠদেশের জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হচ্ছে।


সুতরাং জয়েন্টে ব্যথা কীভাবে আসছে, কতটা ধরল, তার উপস্থাপন কেমন, এর ওপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয় করা হয়। 

এর চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল।ব্যথার ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হওয়াই ভালো। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।


যোগব্যায়ামের অনেক ইতিবাচক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বর্ধিত নমনীয়তা থেকে ভাল রক্ত সঞ্চালন থেকে দ্রুত আঘাত পুনরুদ্ধারের সময় পর্যন্ত।


এটি আপনার জয়েন্টগুলির জন্যও ভাল হতে পারে, এমন একটি সমস্যা যা আমাদের অনেকের বয়সের সাথে সাথে রয়েছে।


যদিও সমস্ত শৈলীর যোগব্যায়াম ভঙ্গি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে, সেখানে কিছু ভঙ্গি রয়েছে যা জয়েন্টের স্বাস্থ্য এবং ব্যথা-মুক্ত আন্দোলনকে উন্নীত করার জন্যইা অপটিমাইজ করা হয়েছে। 


আপনি যদি ব্যথা পান তবে এই আসনগুলো অভ্যাস করে দেখুন এবং যদি ব্যথা না থাকে তাও করতে পারেন যাতে কখনো ব্যথা না হয়। 


যোগ চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৭, নং ৮, নং ৯, নং, ৬, নং ৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন। 


তারপর সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসন, বদ্ধ কোণাসন, সেতুবন্ধ আসন, বীর ভদ্রাসন, ধনুরাসন, উষ্ট্রাসন এবং পদহস্তাসন আসন অভ্যাস করুন।  


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে দৈনন্দিন ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


হৃদপিণ্ড ভালো থাকে।

মেরুদণ্ডের গতিশীলতা উন্নত করে। 

হজমে সহায়তা করতে পারে। 

পিঠ, নিতম্ব এবং উরুর পেশীগুলির ব্যথা কমাতে, নমনীয়তাকে উৎসাহিত করতে এবং গতির পরিসর বাড়াতে সহায়তা করে।

শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রশান্তি আসে। 

মননশীলতা উন্নত করে। মানসিক চাপ কমায়। 

পেলভিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। 

নিম্ন পিঠ, নিতম্ব এবং অভ্যন্তরীণ উরুতে উত্তেজনা এবং নিবিড়তা উপশম করে, নমনীয়তা বাড়ায় এবং শিথিলতা প্রচার করে।

মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা কমাতেও সাহায্য করতে পারে এবং অনাক্রম্যতা এবং মানসিক সুস্থতার উন্নতি করার সময় ব্যথার প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে পারে। 

পিঠের পেশী মজবুত করে।

ফুসফুসকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং থাইরয়েডের সমস্যা কমায়।

মেনোপজ এবং মাসিক ব্যথার উপসর্গ উপশম করতে প্রভূত সহায়ক । 

হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, অস্টিওপোরোসিস এবং সাইনোসাইটিসে উপকারি। 

কোমরের ব্যাথায় উপকারী।দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।শরীরের গঠন সুন্দর হয়।

পায়ের ও পিঠের পেশী মজবুত হয়।ঘাড়ের ব্যাথায় উপশম হয়।

যকৃতের কাজ ভাল হয়, পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়, মেরুদণ্ড নমনীয় করে, বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে।

এডরেনাল গ্রন্থিকে অধিক কর্মক্ষম করে।


বৃদ্ধ বয়সেও বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ত হয় না।


বুকের বেষ্টনীর হাড় বাড়ে। বুকের খাঁচার আকার বৃদ্ধি পায়।


বীর্যধারণশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্তিস্খলন হ্রাস পায়।


পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


রক্তাল্পতা রোগীর উপকার হয়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন। 


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।