হাইপোটেনশন বা নিম্ন রক্তচাপ এমন একটি অবস্থা যখন আপনার ধমনী অস্বাভাবিকভাবে কম রক্ত ​​প্রবাহ পায়। এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার সাথে সাথে এটি আপনার মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্তের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। 

নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম
নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম


এটি মাথা ঘোরা, হালকা মাথাব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতিতে এটি অঙ্গ ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটি সনাক্ত করা হয় যখন আপনার রক্তচাপ ৯০/৬০ এর থেকে কম হয় (অনুকূল ১২০/৮০)। 

উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলোর মধ্যে যদি আপনার কোনোটি থাকে, তাহলে আপনার আজই আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত এবং এটি আনার জন্য প্রতিকারগুলো অনুসরণ করা উচিত। 


এই ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম রোগীদের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে অনেক সাহায্য করে।


যোগব্যায়ামের কারণে হার্টের অভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং ভারসাম্য আনে।


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে পছন্দ অনুযায়ী ৫/৬টি ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


এরপর সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রাঅর্ধমুখ শবাসনমৎস্যাসনঅর্ধকূর্মাসনপদহস্তাসন,  সূর্যভেদ প্রাণায়াম এবং ভস্ত্রিকা নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।


অন্যান্য উপকারিতা


থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।


দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।


যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং স্ট্রেস এবং হালকা বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে।

শরীরে শক্তি যোগায়।

কাঁধ, হ্যামস্ট্রিং, কাফ মাসল, খিলান এবং হাত প্রসারিত করে।

হাত ও পা মজবুত করে।

মেনোপজের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে।

মাথার সাহায্যে করা হলে মাসিকের অস্বস্তি দূর করে।

মেরুদণ্ড টানটান হয়। 

লিভার-কিডনিকেও সুস্থ রাখে এই আসন। 

যৌন আকাঙ্খা বাড়ে। 

পেলভিক পেশির ওপরে চাপ পড়ার ফলে বাড়ে লিবিডো। 

ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব মৎস্যাসনে দুর হয়।

পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।

শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।

হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।

পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।

মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে এবং দেহের অসামঞ্জস্যতা দুর করে।


উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।


রক্তাল্পতা রোগীর জন্য উপকারী।


শক্তি এবং উষ্ণতা প্রদান করে

রক্ত বিশুদ্ধ করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়

কফ কমায় এবং পিত্ত বাড়ায়

হাঁপানি রোগ,থাইরয়েড, টনসিল, প্যারালাইসিস, মাইগ্রেন, হৃদরোগ এবং নানান ধরনের গলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।

সতর্কতা

যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।