এলার্জি থেকে মুক্তি পেতে যেসব যোগাসন করবেন
এলার্জি হচ্ছে ইমিউন সিস্টেমের একটা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যা পরিবেশের কোনো এলার্জেনের কারণে শরীরে হাইপারসেনসিটিভিটি দেখায় কিংবা অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
এলার্জেন: যদি কোনো বস্তু বা উপাদান কোনো মানুষের শরীরে হাইপারসেনসিটিভ রিঅ্যাক্ট দেখায় সেসব বস্ত বা উপাদন সমূহ সেসব মানুষের জন্য এলার্জেন।
সর্দি-কাশি-হালকা জ্বর
অনেক সময় দেখা যায়, বৃষ্টিতে ভিজলে, পুকুরে গোসল করলে, ধুলোবালিতে গেলে, একটু ঠাণ্ডা লাগলে বা কোনো ঠাণ্ডা পানীয় পান করলে কারো কারো সর্দি কাশি শুরু হয়। আবার একই কাজগুলো অন্যরা করলে তাদের কিছুই হয় না।
তাহলে বোঝা গেল বৃষ্টির পানি, ধুলোবালি, পুকুরের পানি বা ঠাণ্ডা জলীয় বস্তু কারো জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। সর্দি-কাশি শুরু হয়ে।
নাক দিয়ে পানি পড়া তথা সর্দি-কাশি, সঙ্গে গায়ে হালকা জ্বর থাকা-- এসবকিছু অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের কারণে হয়ে থাকতে পারে। অনেক সময় রাইনো ভাইরাস এলার্জি হিসেবে কাজ করে।
চোখের এলার্জি
এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস মূলত চোখের একটি এলার্জিজনিত রোগ। এসময় চোখ লাল হয়ে থাকে। চোখ থেকে পানি পড়ে, ব্যথা করে।
পুকুরে গোসল করলে বা খেলাধুলা করলে কিংবা বাহিরে চলাফেরা করলে তাদের চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ থেকে পানি পড়ে, ব্যথা করে এবং চোখ চুলকায়। এগুলো মূলত এলার্জিক কনজাংটিভাইটিসের কারণে হয়ে থাকে।
ফুড অ্যালার্জি
অনেকের মাংস বা বেগুন বা বাইরের খাবারে শরীরে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। বমি বমি ভাব হয়। এগুলো মূলত এলার্জির কারণে হয়ে থাকে। তাদের শরীর ওই সমস্ত খাবারের জন্য উপযোগী না।
তাই তারা যখন ওই খাবারগুলো খান তখন সারা শরীর চুলকাতে থাকে এবং লাল হয়ে যায়। তাহলে বুঝতে হবে মাংস তার জন্য অ্যালার্জেন।
ড্রাগ অ্যালার্জি
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা কোনো এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করার পরে তাদের শরীর চুলকাতে চুলকাতে লাল হয়ে যায়। তাহলে বুঝে নিতে হবে ওই এন্টিবায়োটিকের প্রতিও তার হাইপারসেনসিটিভিটি রয়েছে এবং ওই এন্টিবায়োটিক তার জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে ওই এন্টিবায়েটিক পরিবর্তন করতে হবে।
এনাফাইলেক্টিক রিঅ্যাকশন
এনাফাইলেকটিক রিঅ্যাকশন হচ্ছে এক প্রকার ইমারজেন্সি এলার্জিক কন্ডিশন। মনে করুন কারো শরীরে একটি কীটপতঙ্গের সংস্পর্শ লেগেছে অথবা কোনো ছোট মশা কিংবা অন্যান্য কীটপতঙ্গ কামড় দিয়েছে এর কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল তার শরীররে লাল লাল চাকা হয়ে গেছে।
শরীর প্রচণ্ড চুলকায়। সারা শরীর ব্যথা করে। এই অবস্থাগুলোকে এনাফাইলেক্ট্রিক রিঅ্যাকশন বলে। যাদের শরীর হাইপারসেনসিটিভ তাদের ক্ষেত্রে মশার কামড়ে কিংবা ছারপোকার কামড়ে এনাফাইলেকটিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে।
যোগ চিকিৎসা
ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ১, নং ২, নং ৩, নং ৫ এবং নং ৮ ব্যায়াম করুন।
এরপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন।
তারপর বৃক্ষাসন, সর্বাঙ্গাসন, বীরভদ্রাসন, হলাসন এবং মৎস্যাসন অভ্যাস করুন।
সবশেষে পাঁচ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।
অন্যান্য উপকারিতা
দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
পায়ের, কোমরের ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থিকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমণ্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।
দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।
যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।
ফুসফুসের কার্য ক্ষমতা বাড়ে।
কোমরের ব্যাথায় উপকারী।
পায়ের ও পিঠের পেশী মজবুত হয়।
শরীরের গঠন সুন্দর হয়।
ঘাড়ের ব্যাথার উপশম হয়।
তলপেটের ও কোমরের মাংসপেশিগুলো সবল হওয়ায় ওই জায়গার স্থূলতা কমে।
সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দূর হয়।
কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।
ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব দুর হয়। পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।
শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।
হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।
মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
