অনেক মহিলার যৌন আকাঙ্খা থাকে না। আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি খুব ঝামেলার মনে হতে পারে একজন মহিলার কাছে। 

এর ফলে অনেকে ওষুধ খান আবার অনেকে কাউন্সেলিং করেন। কিন্তু সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কয়েকটি যোগাসন করা। 

যোগব্যায়ামের প্রধান সুবিধা হলো বেডরুমের ভিতরে এবং বাইরে উভয়ই স্থানেই চাপ কমানো। নিয়মিত যোগ অনুশীলন শরীরে কর্টিসলের মাত্রা হ্রাস করে চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। বর্ধিত মানসিক চাপ শরীরের উপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এবং যৌন ইচ্ছা হ্রাস তাদের মধ্যে একটি।

যোগব্যায়াম সামগ্রিক যৌন ফাংশন উন্নত করতেও সাহায্য করতে পারে। একটি গবেষণায় ৪০ জন মহিলাকে  ১২ সপ্তাহ ধরে যোগব্যায়াম করার সময় দেখা গেছে। 

অধ্যয়ন শেষ হওয়ার পরে, গবেষকরা উপসংহারে পৌঁছেছেন যে যোগব্যায়ামের কারণে মহিলাদের যৌন জীবনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এটি একটি ছোট নমুনা আকার এবং শুধুমাত্র একটি গবেষণা, কিন্তু যোগব্যায়াম এবং একটি ভাল যৌনজীবনের মধ্যে সংযোগ প্রতিশ্রুতিশীল।

টেনেসির ন্যাশভিলে অবস্থিত একজন প্রত্যয়িত যোগ প্রশিক্ষক এবং পুরো জীবন যাপনের প্রশিক্ষক লরেন জোলার বলেছেন, "যোগ আপনাকে কীভাবে আপনার শরীরের কথা শুনতে হয় এবং কীভাবে আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তা শেখায়৷ "এই দুটি অভ্যাস সম্মিলিতভাবে আপনাকে আপনার পছন্দ এবং অপছন্দের অন্তর্দৃষ্টি আনতে পারে, যা আপনাকে আপনার সঙ্গীর সাথে সবচেয়ে ভাল যোগাযোগ করতে সহায়তা করে।"

লরেন জোলার বলেছেন, “নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলন আপনাকে বর্তমান মুহুর্তের সচেতনতার মধ্যে নিয়ে আসে যা আপনার যৌনজীবনকে বাড়ানোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে যত বেশি উপস্থিত হতে পারবেন, আপনার উভয়ের জন্য অভিজ্ঞতা তত ভাল হবে,। "

জোলার আরও বলেন, "যৌন এবং যোগব্যায়াম উভয়ই আপনার শারীরিক, মানসিক এবং মানসিক অবস্থাকে উপকৃত করে। আপনার সর্বোত্তম অনুভব করার অ্যাক্সেসের জন্য তাদের নিয়মিত অনুশীলন করতে শিখুন!”

চিকিৎসা

ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম  থেকে নং ৭, নং ৮, নং ৯, নং, ৬, নং ৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।

তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 

তারপর মার্জার্যাসন-বিটিলাসন, সেতুবন্ধ আসন, আনন্দ বালাসন, এক পদ রাজাকপোতাসনসর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রাঅর্ধমুখ শবাসনভদ্রাসন বা গোরক্ষাসন এবং অর্ধকূর্মাসন অভ্যাস করুন। 

সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।

অন্যান্য উপকারিতা

মনকে প্রশান্ত করে। 

পিঠের ব্যথা উপশম করতে পারে। পিঠের পেশী মজবুত করে।

মেরুদণ্ড এবং ঘাড় প্রসারিত এবং শক্তিশালী করে। 

 তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে।  

মস্তিষ্ককে শান্ত করে, উদ্বেগ, চাপ এবং বিষণ্নতা কমায়। 

ফুসফুসকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং থাইরয়েডের সমস্যা কমায়।

হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

মেনোপজ এবং মাসিক ব্যথার উপসর্গ উপশম করে।  

হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, অস্টিওপোরোসিস এবং সাইনোসাইটিসে কার্যকর। 

হিপ জয়েন্ট এবং পেশীসহ সমগ্র শরীরকে প্রসারিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  

রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নিতম্বের চারপাশের পেশীগুলিকে টোন করে। নিতম্বের ব্যথা অল্প সময়ের মধ্যেই উপশম হয়। 

আপনার উরু, ভিতরের নিতম্ব এবং নিতম্বকে বিভিন্ন উপায়ে প্রসারিত করে।

থাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।

দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


প্লীহা-যকৃতের কাজ ভাল হয়।


হাঁপানি সেরে যায়।


যৌনগ্রন্থি সঞ্জীবিত হয় ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং স্ট্রেস এবং হালকা বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে।

শরীরে শক্তি যোগায়।

কাঁধ, হ্যামস্ট্রিং, কাফ মাসল, খিলান এবং হাত প্রসারিত করে।

হাত ও পা মজবুত করে।

মেনোপজের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে।মাসিকের অস্বস্তি দুর করে।

লিভার – কিডনিকেও সুস্থ রাখে। 

পেলভিক পেশির ওপরে চাপ পড়ার ফলে বাড়ে লিবিডো। 

পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।

আমাশয় ভালো হয়।

মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।

সতর্কতা

যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।

সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।