যোগব্যায়াম আপনাকে একটি নমনীয় এবং ফিট শরীর দিতে পরিচিত, কিন্তু আপনি কি ত্বকের যত্নের জন্য যোগব্যায়াম করার কথা বিবেচনা করেছেন? একবার চেষ্টা করে দেখুন। 


যোগব্যায়াম আপনাকে স্বাস্থ্যকর এবং শক্তিশালী করতে বোঝানো হয়েছে। অনাদিকাল থেকে, যোগব্যায়াম অনেক শারীরিক ও মানসিক রোগের জন্য উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে। 


এটি ভেতরে-বাইরে আপনার স্বাস্থ্যের উপর কাজ করে এবং আপনাকে উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় ত্বক দেয় । যাইহোক, ত্বকের যত্নের জন্য যোগব্যায়াম করার বিষয়টি আপনার বিবেচনা করা উচিত। 


ভারতের বিখ্যাত সেলিব্রেটি যোগ বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েলনেস কমিউনিটি স্পেস মুন ভিলেজের প্রতিষ্ঠাতা সমীক্ষা শেঠি বলেন, “যোগ এবং ত্বকের যত্ন, উভয়ই কখনও কখনও একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। যেহেতু যোগব্যায়াম করার অন্যতম সুবিধা হলো একটি উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর ত্বকের চেহারা পাওয়া।যোগব্যায়াম অভ্যন্তরে নানা স্বাস্থ্য সমস্যাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং আপনার মুখে একটি স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল আভা প্রদান করতে পারে।"


যোগ চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং ৮, নং ৯, নং ১০ এবং নং ১১ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


এরপর নিয়ম অনুযায়ী ধনুরাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, অর্ধমুখ শবাসন, মৎস্যাসন, হলাসন এবং সর্বাঙ্গাসন অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা

কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও ডায়বেটিস বা বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।

মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়। হাঁপানি সেরে যায়।

পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়।

মেরুদণ্ড নমনীয় করে, বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে। 

এডরেনাল গ্রন্থিকে অধিক কর্মক্ষম করে।

সায়টিকাসহ নানা ধরনের বাত সেরে যায়। 

পাইলস বা অর্শ রোগ সেরে যায়। 

ডায়বেটিস বা বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

আমাশয় রোগে উপকার হয়। 

পেট ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।

মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং স্ট্রেস ও হালকা বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে।

শরীরে শক্তি যোগায়।

কাঁধ, হ্যামস্ট্রিং, কাফ মাসল, খিলান এবং হাত প্রসারিত করে।

হাত ও পা মজবুত করে।

মেনোপজের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে।

মাসিকের অস্বস্তি দূর করে।

থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েডকে সবল ও শক্তিশালী করে।

ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব দুর হয়।


পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।


শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


হাঁপানি সেরে যায়।


তলপেটের ও কোমরের মাংসপেশিগুলো সবল হওয়ায় ওই জায়গার স্থূলতা কমে।


সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।


দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


স্ত্রী-পুরুষদের যৌনগ্রন্থি সঞ্জীবিত হয়; পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।