কোমড় ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে যোগব্যায়াম
কোমড় বা পিঠে ব্যথা করছে? যোগব্যায়াম করুন। অসংখ্য গবেষণায় প্রাচীন অনুশীলনের শক্তি দেখানো হয়েছে, যা প্রসারিত, শক্তি এবং নমনীয়তার উপর জোর দেয়, পিঠের ব্যথা উপশম করতে এবং কার্যকারিতা উন্নত করতে।
অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিন-এ জুলাই 2017-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, যোগব্যায়াম এমনকি ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তিন মাসের গবেষণার শুরুতে, যেখানে একটি গ্রুপকে তাদের পিঠের ব্যথার জন্য শারীরিক থেরাপি দেওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় গ্রুপকে যোগব্যায়াম এবং তৃতীয় গ্রুপকে ব্যথা ব্যবস্থাপনার কৌশলের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৭০ শতাংশ মানুষই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ খেয়েছিলেন।শেষ পর্যন্ত ওষুধের মাধ্যমে যারা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ওষুধ খেয়েই চলেছেন। এবং ব্যথা একই রকম ছিল।
শুধুমাত্র যারা যোগব্যায়াম করেছেন তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
ম্যাসাচুসেটসের একজন ফিটনেস বিশেষজ্ঞ জেনিফার বেলিস বলছেন, যাদের মাঝে মাঝে ব্যথা হয় বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হয় তারা কিছু নির্দিষ্ট ভঙ্গি থেকে উপকৃত হতে পারেন যা আপনার মেরুদণ্ডকে লম্বা করতে, আপনার পেশীকে প্রসারিত করতে ও শক্তিশালী করতে এবং আপনার পিঠকে তার সঠিক প্রান্তিককরণে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
ভারসাম্য এবং স্থিরতার উপর যোগব্যায়ামের ফোকাস আপনার শরীরকে পিঠে ব্যথার কারণগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে, যার মধ্যে রয়েছে দুর্বল পেট এবং পেলভিক পেশী, সেইসাথে নিতম্বের নমনীয়তার অভাব।
আপনি যখন এই পেশীগুলোকে শক্তিশালী করেন, তখন আপনি আপনার ভঙ্গিটি উন্নত করেন, যা আপনার পিঠের ভার হ্রাস করে এবং এইভাবে আপনি যে ব্যথা অনুভব করেন তা হ্রাস করে। এছাড়াও, স্ট্রেচিং টাইট পেশীতে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে নমনীয়তা বাড়াতে পারে।
গবেষকরা আবিষ্কার করতে শুরু করেছেন যে কীভাবে মস্তিষ্কে যোগব্যায়ামের প্রভাব ব্যথা হ্রাসে অবদান রাখতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ দ্বারা পরিচালিত এবং ফ্রন্টিয়ার্স ইন হিউম্যান নিউরোসায়েন্স-এ মে ২০১৫-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষায়, বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় আক্রান্তদের মস্তিষ্ক এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলনকারীদের মস্তিষ্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
যাদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা রয়েছে তাদের মস্তিষ্কের টিস্যু কম ছিল যা আমাদের ব্যথা সহ্য করতে সাহায্য করে, কিন্তু যারা যোগব্যায়াম করেছিল তাদের বেশি ছিল - যা ইঙ্গিত করে যে যোগব্যায়াম কেবল শারীরিকভাবেই নয় স্নায়বিকভাবে সুরক্ষামূলক হতে পারে।
নিচের ব্যায়ামগুলো করলে আপনি অন্যান্য উপকারিতাও পেতে পারেন, যার মধ্যে হৃদস্পন্দন হ্রাস, রক্তচাপ হ্রাস, উন্নত ঘুম এবং বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের লক্ষণগুলো হ্রাস করা অন্তর্ভুক্ত।
যোগ চিকিৎসা
ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।
তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন।
এরপর শশাংগাসন, অর্ধকূর্মাসন, ত্রিকোণাসন, ভুজংগাসন, মার্জার্যাসন-বিটিলাসন, এক পদ রাজাকপোতাসন এবং পদহস্তাসন নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।
অন্যান্য উপকারিতা
মেরুদণ্ড সরল অথচ নমনীয় হয়। বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা হয়।
যকৃৎ ও প্লীহার কাজ ভাল হওয়ায় হজম শক্তি বাড়ে।
থাইরয়েড ও পিটুইটারি গ্রন্থি ও প্যানক্রিয়াসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
বহুমূত্র, অস্বাভাবিক স্থূলত্ব বা শীর্ণতা রোগ হয় না।
শরীর যৌবনোচিত পুষ্টি লাভ করে।
উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।
পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
আমাশয় নিরাময় হয়।
কটি বাত ও বেদনা হয় না।
মেরুদণ্ডের কাঠিন্য দুর করে একে নমনীয় করে এবং মেরুদণ্ডে অধিক রক্ত পাঠিয়ে স্নায়ুমণ্ডলীকে সতেজ করে।
কোমরে বাত হতে পারে না।
হৃৎপিণ্ড সবল ও বুকের গঠন সুন্দর হয়।
কুজোদের জন্য উপকারী।
হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
পুরুষদের মরকণ্ড এবং মেয়েদের ঋতু রোগ ও শ্বেত প্রদরসহ নানারকম স্ত্রীরোগ ভালো হয়।
এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভালো হয়।
কুলকুণ্ডলিনী শক্তি জাগরিত হন।
পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হয়।
কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে।
উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।
রক্তাল্পতা রোগীর জন্যও উপকারী।
মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
