মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথা ব্যথা। মাথার যেকোনও এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় পুরো মাথায় ব্যথা করে। এতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। 


মাথাব্যথা খুবই সাধারণ উপসর্গ। কোন মাথাব্যথা মাইগ্রেনের, কোনটা নয়, তা বুঝতে রোগীর অনেকটা সময় লেগে যায়।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হলে এর মূল কারণটি বোঝা জরুরি। মাইগ্রেনের সমস্যা হলে মাথা দপদপ করে। মনে হয়, মাথার ভিতর থেকে ব্যথা হচ্ছে।


চিকিৎসকদের মতে, মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক দিকে হয়, ডান অথবা বাঁ। সময়বিশেষে দিক পরিবর্তিত হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস বদলে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। যোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন কোন আসনগুলো আপনাকে মাইগ্রেন থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং কীভাবে এই যোগাসনগুলি করা যায়। 


পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মাইগ্রেনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তার কারণ হরমোনগত বিভেদ। মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণেই মাইগ্রেনের প্রকোপ বেশি। 


তাই অনেক মেয়ের বয়ঃসন্ধিক্ষণে প্রথম ঋতুস্রাবের সঙ্গেই মাইগ্রেনের সমস্যাও পাশাপাশি শুরু হয়। মাইগ্রেন ব্যথায় পেইনকিলার সাধারণত দেওয়া হয় হলে মত বিশেষজ্ঞদের। 


তবে দীর্ঘ দিন ধরে তা খেলে অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রোগী নিজে থেকে যদি কোনও পেইনকিলার খেতে শুরু করেন, তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং নং ৬, নং৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


তারপর পদহস্তাসন, অর্ধমুখ শবাসন, অর্ধকূর্মাসন, জানুশিরাসনপ্রসারিতা পদোত্তনসানা এবং ভস্ত্রিকা অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।


অন্যান্য উপকারিতা


পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হয়।


কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে।


রক্তাল্পতা রোগীর জন্য উপকারী।

মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং স্ট্রেস এবং হালকা বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে।

শরীরে শক্তি যোগায়।

কাঁধ, হ্যামস্ট্রিং, বাছুর, খিলান এবং হাত প্রসারিত করে।

হাত ও পা মজবুত করে।

মেনোপজের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে।

মাথার সাহায্যে করা হলে মাসিকের অস্বস্তি দূর করে।

মেরুদণ্ড টানটান হয়। 

লিভার-কিডনিকেও সুস্থ রাখে।  

যৌনতা প্রবল বাড়ে । 

পেলভিক পেশির ওপরে চাপ পড়ার ফলে বাড়ে লিবিডো। নারী -পুরুষ উভয়ের পক্ষেই  বিশেষ উপকারী।

পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


আমাশয় ভালো হয়।


মুত্রাশয়ের দোষ দুর হয়। প্যানক্রিয়াসের কাজ ভালো হওয়ায় প্যানক্রিয়াস থেকে প্রয়োজনমত ইনসুলীন' রস বের হয় বলে বহুমুত্র সেরে যায়।


অর্শ, কটিবাত সারানো এবং সায়টিকা নিবারণ করে।


মনকে আরাম করতে সাহায্য করে এবং প্রশান্তির অনুভূতি দেয়।

লিভার, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি ভালো থাকে।  

হজমে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে।

হ্যামস্ট্রিং এবং মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করে, যা হালকা পিঠে ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

বিষণ্নতা উপশমে সাহায্য করে। 

হাঁপানি রোগ,থাইরয়েড, টনসিল, প্যারালাইসিস, মাইগ্রেন, হৃদরোগ এবং নানান ধরনের গলার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।

উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।

সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।