যোগব্যায়ামের অগণিত উপকারিতা রয়েছে। একটি বিশেষ উপকারিতা হলো এটি মাংসপেশির ব্যথা উপশম করতে এবং আপনার পেশী প্রসারিত করতে সহায়তা করে।


যোগব্যায়াম একটি শক্তিশালী অনুশীলন যা আমাদের সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে, স্ট্রেস পরিচালনা করে এবং ব্যথা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। যোগব্যায়াম শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর দৃঢ় মনোযোগের কারণে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তি জোগায় এবং শিথিল করে।

বিভিন্ন ধরণের ভঙ্গি এবং মননশীল শ্বাস-প্রশ্বাসসহ একটি স্বাস্থ্যকর যোগ অনুশীলন পেশী বা জয়েন্টগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং শক্ততা কমাতে সহায়তা করে। 


যোগ চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং নং ৬, নং৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।

তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 

তারপর অর্ধশলভাসন, অর্ধ মুখ শবাসন, অর্ধ পিছ ময়ূরাসন, দ্বিপদ মার্জারি আসন, সুপ্ত কপতাসন এবং অর্ধকূর্মাসন অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


হৃদযন্ত্র ও হজমযন্ত্রের কাজ ভাল হয়।


পেটের নিচের ও পাছার পেশীগুলো মজবুত হয়।


মেরুদণ্ডের কাজ ভালো হয়।


কোমরের ব্যথা, সায়টিকার ব্যথা ও কটিবাত ইত্যাদি সেরে যায়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, খাবার পর পেটফাঁপা রোগ সারায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে।


মেয়েদের অনেকদিনের ঋতুকালীন মাজা ব্যথা আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভালো হয়।


মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং স্ট্রেস এবং হালকা বিষণ্নতা দূর করে। 

শরীরে শক্তি যোগায়।

কাঁধ, হ্যামস্ট্রিং, কাফ মাসল, খিলান এবং হাত প্রসারিত করে।

হাত ও পা মজবুত করে।

মেনোপজের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে। মাসিকের অস্বস্তি দুর করে।

লিভার-কিডনিকেও সুস্থ রাখে।  

যৌন আকাঙ্খা বাড়ে। 

পেলভিক পেশির ওপরে চাপ পড়ার ফলে বাড়ে লিবিডো। নারী -পুরুষ উভয়ের পক্ষেই এই ব্যায়াম বিশেষ উপকারী।

স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে।

নিচের পিঠ, মাঝখানে, ঘাড় এবং কাঁধের চারপাশে উত্তেজনা থেকে মুক্তি দেয়

বাহু, কাঁধ এবং কবজিকে শক্তিশালী করে

নিতম্বের জয়েন্ট, হাঁটুর জয়েন্ট এবং কাঁধের জয়েন্টগুলোকে শক্তিশালী করে

স্ট্রেস, অনিদ্রা দুর করে। ভালো ঘুম হয়। 

গর্ভকালে এবং প্রসবের পরে জটিলতা থাকে না।  

ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্তদের জন্যে উপকারী।  

মণিপুরা চক্র (সৌর প্লেক্সাস) এবং বিশুদ্ধি চক্র (গলা চক্র) সক্রিয় করে। 

নিতম্ব, গ্লুটস, পিঠের নিচের অংশ এবং হ্যামস্ট্রিংগুলো প্রসারিত করে এবং খোলে। 

আইটি ব্যান্ডকেও লম্বা করে, তাই এটি হাঁটু রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

মানসিক চাপ কমাতে সহযোগিতা করে। 

শরীরের নিচের দিকে রক্ত ​​প্রবাহ এবং সঞ্চালন উন্নত করে।

পেটের অঙ্গগুলি উদ্দীপিত হয় এবং পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে।

যকৃত ও পেটের অসুখ সারে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


আমাশয় নিরাময় হয়।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।