মাসিকের সময় কারও কারও তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও অস্বস্তি হয়, যা কোমর, ঊরু ও পা পর্যন্ত ছড়াতে পারে। একে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। 


এই ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে তীব্র পর্যন্ত হতে পারে এবং মাসিক শুরুর এক দিন আগে থেকে অথবা মাসিক শুরুর দিন থেকে শুরু হতে পারে এ ব্যথা। 


ব্যাথা ১২-৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর থেকে এ সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যায়।

যোগব্যায়ামের মাধ্যমে প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ার কষ্টগুলো কমানো সম্ভব।


ভুলেও ব্যথা কমানোর ওষুধ খাবেন না। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৭, নং ৮, নং ৯, নং, ৬, নং ৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ অনুশীলন করুন।

তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন। 

তারপর হলাসন, ভুজংগাসন, ভদ্রাসন, দণ্ডায়মান জানুশিরাসন সেতুবন্ধ আসন  এবং শলভাসন নিয়মমাফিক অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে দৈনন্দিন ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


মেরুদণ্ড ও থাইরয়েড্‌কে সবল ও কর্মক্ষম করে। এতে তলপেটের ও কোমরের মাংসপেশিগুলো সবল হওয়ায় ওই জায়গার স্থূলতা কমে।


সন্তান প্রসবের ৩ মাস পরে মায়েদের জন্য উপকারী এই ব্যায়াম। সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।


কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।


কোমরে বাত হতে পারে না


হৃৎপিণ্ড সবল ও বুকের গঠন সুন্দর হয়।


কুঁজোদের জন্য উপকারী এই ব্যায়াম।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয় এবং কুলকুণ্ডলিনী শক্তি জাগরিত হন।


হাঁটুর সন্ধিস্থলের উপরের পেশী ও মেরুদণ্ড অধিকতর নমনীয় হয়। ফলে হাঁটুতে ও কোমরে বাত হতে পারে না।


মেরুদণ্ডের, হাত ও পায়ের পেশীগুলো নমনীয় হওয়ার দরুন কোমর থেকে দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের স্বাভাবিক সমতা বজায় রাখা সহজ হয়।


দেহের সমতা ফিরে আসবে।


পিঠের পেশী মজবুত করে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে। বুক, ঘাড় এবং মেরুদণ্ড প্রসারিত করে। 

মস্তিষ্ককে শান্ত করে, উদ্বেগ, চাপ এবং বিষণ্নতা কমায়। 

ফুসফুসকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং থাইরয়েডের সমস্যা কমায়।

হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, অস্টিওপোরোসিস এবং সাইনোসাইটিসে  খুবই কার্যকরী। 

পেটের নিচের ও পাছার পেশীগুলি মজবুত হওয়ায় এবং মেরুদণ্ডের কাজ ভাল হওয়ায় কোমরের ব্যথা, সায়টিকার ব্যথা ও কটিবাত ইত্যাদি সেরে যায়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, খাবার পর পেটফাঁপা রোগ সারায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।


মেয়েদের অনেকদিনের ঋতুকালীন মাজা ব্যথা আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।



সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।