নিতম্ব এবং নিতম্বের ব্যথা সকলকে আক্রান্ত করতে পারে। নিতম্ব এবং কাছাকাছি কাঠামোতে ব্যথা হওয়া অত্যন্ত ঝামেলার হতে পারে এবং জীবনমানের এবং কাজের ক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে। 

হিপ ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যানজট, ট্রমা, পরিধান / অস্টিওআর্থারাইটিস, পেশীগুলির ত্রুটি এবং যান্ত্রিক কর্মহীনতা দায়ী। 


নিতম্ব বা পাছা ব্যথা একটি উপদ্রব যা জনগণের একটি বৃহৎ অংশকে আক্রান্ত করে। 


এ ধরনের ব্যথায় সাধারণত অনেকেই ব্যথার ওষুধ বা  পেইন কিলার খায়। কিন্তু পেইন কিলার খেলে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া গেলেও ব্যথা ভালো হয় না। 


তাছাড়া পেইন কিলার খেলে দীর্ঘ মেয়াদে কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। তাই পেইন কিলার না খাওয়াই ভালো। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।


তবে নিচের যোগব্যায়ামগুলো ঠিকমতো করলে ব্যথা ভালো হয়ে যাবে। 


যোগ  চিকিৎসা

ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


এরপর বদ্ধ কোণাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, আনন্দ বালাসন, গোমুখাসন, মার্জার্যাসন-বিটিলাসন, বিপরীতকরণী মুদ্রা এবং বীরভদ্রাসন নিয়ম অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


মেরুদণ্ড শক্তিশালী করে।

পিঠ, নিতম্ব এবং উরুর পেশীগুলির ব্যথা কমাতে, নমনীয়তাকে উৎসাহিত করতে এবং গতির পরিসর বাড়াতে সহায়তা করে।

পাছা এবং আশেপাশের অঞ্চল ব্যথামুক্ত করতে সহায়তা করে। 

মননশীলতা উন্নত করে। মানসিক চাপ কমায়। 

পেলভিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। 

কটিবাত, পৃষ্ঠবাত, কোষ্ঠবদ্ধতা ও অজীর্ণ নিরাময় হয়।

স্পনডিলাইটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

হিপ জয়েন্ট এবং পেশীসহ সমগ্র শরীরকে প্রসারিত করে। 

শুধুমাত্র সামগ্রিক ভারসাম্য এবং স্ট্যামিনা বাড়ায় না বরং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নিতম্বের চারপাশের পেশীগুলিকে টোন করে। 

অনুশীলন করলে নিতম্বের ব্যথা অল্প সময়ের মধ্যেই উপশম হয়। 

মনকে শান্ত করে এবং শরীরকে চাপমুক্ত করে। 

পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্‌সম্‌নিয়া) দুর করে এবং কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে। 

পিঠের ব্যথা উপশম করতে পারে। 

মেরুদণ্ড এবং ঘাড় প্রসারিত এবং শক্তিশালী করে। 

জরা ও ব্যাধি দূরীভূত হয়।

ফুসফুসের কার্য ক্ষমতা বাড়ে।

কোমরের ব্যাথায় উপকারী।

শরীরের গঠন সুন্দর হয়।

ঘাড়ের ব্যাথায় উপশম হয়।

মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।

উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।