প্রস্টেটের আকার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণত বার্ধক্য আসার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়। সারা বিশ্বের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, আশি বছরের বেশি বয়স এমন অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায়। ৫০ পেরোলেই ঝুঁকি থাকে। 

প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যায় যোগব্যায়াম
প্রোস্টেট বড় হওয়ার কারণ হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বার্ধক্যজনিত নানা পরিবর্তন আসে। একইসঙ্গে হরমোনের ভারসাম্যেও পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এই দুইয়ের মিলিত কারণে বেনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্ল্যাশিয়া রোগটি দেখা দেয়।

প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণ: কারও ক্ষেত্রে এতই বড় হয়ে যায় যে, প্রস্রাবথলি থেকে প্রস্রাব নির্গমনের রাস্তার উপরে চাপ পড়ে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। তখন আর প্রোস্টেট গ্রন্থির কাজ সূচারু রূপে সম্পন্ন হয় না। 

প্রস্রাব চেপে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। প্রস্রাবের গতি কমে যেতে পারে। প্রস্রাব করার পরেও মূত্রথলি পুরো খালি না হয়ে প্রস্রাব জমে থাকে। 

সেখান থেকে মূত্রথলিতে পাথরও তৈরি হতে পারে। কিডনির উপরে চাপ পড়ে কিডনি ফুলে যেতে পারে। কিডনি ফেলিয়োরও হতে পারে। প্রস্রাবে সংক্রমণের ফলে রক্তও পড়তে পারে। 

তবে শুধু যে পঞ্চাশ পেরোলেই প্রস্টেটের অসুখ হয়, তা কিন্তু নয়। কম বয়সেও প্রস্টেট ইনফেকশন হতে পারে, যাকে ডাক্তারি ভাষায় প্রস্টেটাইটিস বলে। এর ফলে প্রস্রাবে জ্বালা, রক্তক্ষরণ, পুঁজনিঃসরণ, জ্বর এই সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যৌন সংক্রমণ বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড রোগের ক্ষেত্রেও এমন দেখা যায়।

প্রোস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধির চিকিৎসা:  ক্ষেত্রবিশেষ প্রোস্টেট বৃদ্ধিজনিত উপসর্গগুলো মেডিসিন প্রয়োগের মাধ্যমে উপশম লাভ করা যায়। প্রস্টেট ওষুধ মাংশপেশিগুলো শিথিল করে প্রস্রাবের বাধা দূর করে।

প্রস্টেট ভাল রাখার উপায়: যোগাসনের মাধ্যমে এই কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যোগাসনের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। নিয়মিত যোগাসন মন ও শরীরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া অগ্ন্যাশয় ও ব্লাডারের পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে প্রস্টেট বেড়ে যাওয়ার মতো রোগের আশঙ্কা কমে।

নিয়মমাফিক যোগাসনে পেলভিক আঞ্চলের পেশিগুলো শক্ত ও নমনীয় থাকে। প্রতিদিন ব্যায়ামের অভ্যাস থাকলে কোনওরকম ওষুধ বা বড়সড় চিকিৎসা সহজেই এড়ানো যায়।

যোগচিকিৎসা

প্রথমে ওয়ার্ম আপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে ৬/৫টি ব্যায়াম করুন। তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন। 

তারপর বীরাসন ও সুখাসনবদ্ধ কোণাসনজানুশিরাসন, এবং ধনুরাসন অভ্যাস করুন। 

সবশেষে আবার ৫ মিনিট শবাসন করেন ব্যায়াম শেষ করুন। 

অন্যান্য উপকারিতা

ব্যায়ামগুলো শরীরের প্রায় সবগুলো ফাংশন উন্নত করতেই সহায়ক।


সতর্কতা

যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।

সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

উপসংহার

 এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।