মাংসপেশির পুষ্টিসাধনের জন্য নানা রকম ব্যায়াম অভ্যাস করা যায়— যেমন, খালি হাতে ব্যায়াম, বারবেল নিয়ে ব্যায়াম, প্যারালাল বার, রিং, কুস্তি, ইত্যাদি। কিন্তু যৌগিক ব্যায়াম দেহাভ্যন্তরের স্নায়ু মন্ডলীকে, গ্রন্থিগুলিকে ও অন্যান্য যন্ত্রগুলিকে যে রকম পুষ্ট ও সবল করতে পারে, অন্য কোন ব্যায়াম সে রকম করতে পারে না।

স্নায়ুমন্ডলী আমাদের এই দেহযন্ত্রকে চালিত করে। মস্তিষ্ক স্নায়ুমন্ডলীর কেন্দ্রস্থল। এই স্থান থেকে বিভিন্ন স্নায়ুর সাহায্যে যে আদেশ প্রেরিত হয়—তা মাংসপেশী ও বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে চালিত করে। আজও দেশি-বিদেশি এমন কোনও ব্যায়াম পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি, যা মস্তিষ্কের মধ্যে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত করে মস্তিষ্ককে সবল ও অধিক কর্মক্ষম করতে পারে।

যোগ ব্যায়াম বিশেষতঃ শীর্ষাসন মস্তিষ্কে অধিক রক্ত পাঠিয়ে ঐ কাজ করতে পারে। সর্বাঙ্গাসন থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ইত্যাদি গ্রন্থিগুলিকে রক্তস্নাত করে এদের যেমন উজ্জীবিত করে, অন্য কোন ব্যারাম সে রকম করতে পারে না।



গ্রন্থি সম্বন্ধে নিম্নে সংক্ষেপে আলোচিত হলো:


মানব দেহে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সুষ্ঠু পরিচালনার দরুন আমাদের জীবন ধারণ করা সম্ভব। কতিপয় গ্রন্থি হতে একাধিক ধরনের রাসায়নিক (কেমিক্যাল্ ) তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়ে জন্ম হতে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন কার্য প্রণালী সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।


আবার জন্মের পরেই অথবা জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই কতকগুলি গ্রন্থির কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়। যে সকল গ্রন্থির রসনিঃস্রাবী নল থাকে তাদের বহিঃক্ষরা গ্রন্থি ( এক্সোক্রিন গ্ল্যান্ড ) বলা হয়।


এই সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস পরিপাক ক্রিয়ার সহায়তা করে। কিন্তু যে সকল গ্রন্থির রসনিঃস্রাবী নল থাকে না, তাদের নলবিহীন বা অন্তঃক্ষরা (ডাক্টলেস্ বা এনডোক্রিন) গ্রন্থি বলে।


অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হতে যে রস নিঃসৃত হয় তাকে ‘হরমোন' বলে। 'হরমোন' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ—যা উত্তেজিত করে।


মানব দেহের প্রধান গ্রন্থিগুলির নাম নিম্নে প্রদত্ত হলঃ


১। ‘এ’ – পিনীয়েল বডি, ২। ‘বি’-পিটুইটারী গ্রন্থি (হাইপোফিসিস্), ৩। 'সি' থাইরয়েড্, ৪। ‘ডি’-প্যারা-থাইরয়েড, ৫। ই’-থাইমাস গ্রন্থি, ৬। ‘এফ’-এ্যাড্রিনাল, ৭। ‘জি’-অগ্ন্যাশয় (প্যাংক্রিয়াস্), ৮। ‘এইচ’-যৌন-গ্রন্থি (গোনাড্স), স্ত্রী যৌনগ্রন্থি ( ওভারি ), ৯। 'আই’-পুরুষ যৌনগ্রন্থি (টেস্‌টিস্) ও ১০। ‘জে’-বৃক্ক (কিড্‌নি) (১ নং ছবি দেখুন )।


এই সকল গ্ৰন্থি হ’তে বিভিন্ন প্রকারের হরমোন নিঃসৃত হয়। যদিও রক্তে এদের পরিমাণ খুবই অল্প তবুও মানব দেহের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ওপর এরা বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে।


কোনো কোনো গ্রন্থিরস খাদ্যবস্তু পরিপাক করতে সাহায্য করে, কোনো কোনো গ্রন্থিরস যেমন থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত থাইরোক্সিন বিপাক প্রক্রিয়া ও দৈহিক উষ্ণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে; কোনো গ্রন্থিরস দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে; আবার স্ত্রীলোক ও পুরুষের বিভিন্ন দেহযন্ত্রের যৌনগ্রন্থির (গোনাস্) গ্রন্থিরস দেহে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে।


এছাড়া হৃদস্পন্দন রক্তচাপ পেশীতন্তুর কর্মক্ষমতা ইত্যাদি শরীরবৃত্তীয় কার্যেও কোনো কোনো গ্রন্থিরস সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে। মানব দেহের স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা গ্রন্থিরসকে নিয়ন্ত্রিত করে অপর পক্ষে গ্রন্থিরসও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে।


গ্রন্থিসমূহের প্রধান গ্রন্থি পিটুইটারি—ইহা মস্তিষ্কের ভিতর অবস্থিত। এর নির্দেশে বাকি গ্রন্থিগুলি নিজ নিজ কার্য নিয়মিত সম্পন্ন করে।


উচ্চাকাঙ্খার বিফলতাজনিত মানসিক অশান্তিতে (টেনশন) যাঁরা ভোগেন, তাঁদের এ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে যে 'কটকোলামাইন' রস নির্গত হয় তা করোনারি শিরাকে সরু করে দেয়।


ফলে হৃদযন্ত্রে রক্তের যোগান কমে যাওয়ায় বুকে ব্যথা, ঘাম, শ্বাসকষ্ট, প্রচন্ড উদগার এবং কখনও কখনও পেটের উপরদিকে ব্যথা হয়—এমন কি রক্তচাপ বৃদ্ধি ও করোনারি থ্রমবসিস হওয়ার কারণ হয়।


এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ডাক্তাররা বলেন—


(১) দেহের ওজন যাতে না বাড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।


(২) সিগারেট না খাওয়া।


(৩) চর্বিজাতীয় খাদ্য সম্পূর্ণ বর্জন করা।


(৪) ভ্রমণ প্রাণায়াম  ও যোগ ব্যায়াম ও হাল্কা ব্যায়াম অভ্যাস করা।



নিয়মিত কিছুদিন যোগব্যায়াম অভ্যাস করলে মস্তিষ্কের ধারণ শক্তি বাড়ে, স্নায়ু সতেজ ও মাংসপেশী সবল হয় এবং কোষ্ঠবদ্ধতা, বহুমূত্র, অর্শ ও শুক্রতারল্য প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধি সেরে যায়।


যোগাসন অভ্যাসে শক্তিক্ষয় কম হয় ও শক্তিবৃদ্ধি পায়, দেহ রোগমুক্ত হয়, যৌবন ও সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী হয়, স্বাস্থ্য, বীর্য এবং দীর্ঘজীবন লাভ হয়। এছাড়া মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ও একাগ্রতা আনতে যোগব্যায়াম অদ্বিতীয়।


মেরুদণ্ডে বা কশেরুকা স্তম্ভে ( ভারটিব্রাল কালাম বা স্পাইন্ ) মোট ৩৩টি ক্ষুদ্রাস্থি বা কশেরুকা ( ভারটিব্রি ) আছে। এই ৩৩ টা কশেরুকার মধ্যে ৯ টি মানুষ পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পর পরস্পর সংযুক্ত হয়ে ২টি স্বতন্ত্র অস্থিতে যথা—ত্রিকাস্থিতে (সেক্রাম) এবং অনুত্রিকাস্থিতে (কক্‌সিস) পরিণত হয়।



মেরুদণ্ডের সমস্ত কশেরুকাগুলি সংযুক্ত হলেও এরা ঠিক পরস্পরের উপর স্থাপিত নয়, এঁদের মধ্যে সামান্য ছেদ আছে। এই ছেদগুলি তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) দ্বারা পূর্ণ ( ২ নং ছবি দেখুন )।


এ ছাড়া কশেরুকাগুলো এমনভাবে সংস্থাপিত যে তাদের ভেতরে যে লম্বা নালিকাপথ সৃষ্ট হয়—সেই নালিকাপথে সুষুম্নাকান্ড (কেন্দ্রীয় স্নায়ু) অবস্থিত।


মানব দেহতত্ত্বের সরচেয়ে প্রয়োজনীয় বিস্ময়কর এবং জটিল ব্যাপার হচ্ছে— মেরুদণ্ড এবং স্নায়ুতন্ত্রের কাজ। স্নায়ুসমূহ দেখতে সূক্ষ্ম, রজ্জুর বা সূত্রের মত, পীতাভ, কোনো কোনোটা শুভ্র উজ্জ্বল ও কোমল।


কার্যতঃ স্নায়ু দুটি পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে— (১) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ) ও (২) স্বতঃক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র ( অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম্ )।


মস্তিষ্ক ( ব্রেইন্ ) এবং সুষুম্নাকান্ড ( স্পাইনাল কর্ড ) নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। সুষুম্না শীর্ষক ( মেডুলা অলংগাটা), লঘু মস্তিষ্ক (সেরিবেলাম্), মধ্যযোজক ( পশ্), মধ্য মস্তিষ্ক (মিড ব্রেইন্ ) থ্যালামাস, গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম্ ) ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে মস্তিষ্ক গঠিত। আবার সমবেদী ( সিমপ্যাথেটিক্ ) এবং পরাসমবেদী ( প্যারাসিমপ্যাথেটিক্) স্নায়ু নিয়ে স্বতঃক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।


এই স্নায়ুমণ্ডলী অজ্ঞাত কৌশলে সাক্ষাৎ বা অসাক্ষাৎভাবে আমাদের দেহমনের বিভিন্ন গতি, প্রগতি, অনুভূতি, চেষ্টা ও কাজের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা। মোট কথা স্নায়ুতন্ত্র একটি রাজ্যের শাসনকর্তার মত দেহের প্রত্যেকটি কার্য পরিচালনা ও তদারক করে।


প্রাণিজগতে স্নায়ুতন্ত্রের শুরু ‘হাইড্রা' নামক প্রাণীর দেহের স্নায়ুজাল থেকে। ক্রমবিবর্তনের মধ্যে পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্নায়ুজাল হতে বিভিন্ন স্নায়ুতন্ত্র প্রাণিদেহে দেখা দিলো—মানবদেহে এই বিবর্তন চরম পরিণতি লাভ করেছে।


ব্যায়াম শিক্ষার মুখ্য উদ্দেশ্য এবং ব্যায়ামকারীর লক্ষ্য আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে অধিকতর নিয়ম, নিষ্ঠা, নিশ্চয়তা, শৃঙ্খলা ও সূক্ষ্মতার সহিত পরিচালনে অভ্যস্ত করে তোলা। অনেক সময় দেখতে পাওয়া যায়—স্নায়ুতন্ত্রের উপর সম্যক আধিপত্য না থাকায় পেশীসমূহকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ( কো-অর্ডিনেশন্ অব্ মাস ) করা সম্ভব হয় না।


সুষুম্নাকাণ্ডের বিভিন্ন অংশ হতে মোট ৩১ জোড়া স্পাইনাল নার্ভ উৎপন্ন হয়ে মস্তিষ্ক ছাড়া দেহের নিম্নলিখিত বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে থাকে, যথা—–(১) ৮ জোড়া গ্রীবা অঞ্চলে (সারভাইক্যাল রিজিয়ন ); (২) ১২ জোড়া বক্ষ অঞ্চলে (থোরাসিক রিজিয়ন); (৩) ৫ জোড়া কটি অঞ্চলে ( লাম্বার রিজিয়ন) (৪) ৫ জোড়া ত্রিকাস্থি অঞ্চলে, (স্যাক্রাল্ রিজিয়ন); ও (৫) ১ জোড়া অনুত্রিকাস্থি অঞ্চলে (কব্জিজিয়াল রিজিয়ন)।



মস্তিষ্ক হতে উদ্ভূত ১২ জোড়া স্নায়ুকে করোটিক স্নায়ু বা ক্রেনিয়াল নার্ভ বলা হয়। এই স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে দেহের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ হয়। যথা (১) ঘ্রাণজ স্নায়ু ( অলফ্যাক্টরি নার্ভ), (২) চক্ষু স্নায়ু ( অপ্‌টিক্ নার্ভ), (৩) চক্ষু সঞ্চালন স্নায়ু ( অকুলোমোটর নার্ভ ), (৪) চক্ষু পেশী স্নায়ু ( টর্চলার ), (৫) দত্ত এবং চোয়াল সঞ্চালন স্নায়ু (ট্রাইজেমিন্যাল্ ), (৬) সুষুম্নাশীর্ষক স্নায়ু (অ্যাবডুসেন্স ), (৭) মুখমন্ডলের স্নায়ু (ফেসিয়াল্), (৮) শ্রবণ স্নায়ু ( অডিটরী ), (৯) আস্বাদন ও স্পর্শন স্নায়ু ( মসোফ্যারেনজিয়াল), (১০) ভ্রাম্যমাণ স্নায়ু (ভেগাস্ নার্ভ) (১১) সুষুম্না সহায়ক স্নায়ু ( স্পাইন্যাল অ্যাক্সেসরি ), (১২) জিহ্বাসঞ্চালন স্নায়ু (হাইপোগ্লসাল্) (৩ নং ছবি দেখুন )।


ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বাহ্য জগতের কোন বস্তুর সংযোগ বা সংস্পর্শ ঘটা মাত্র উদ্দীপনা অন্তর্মুখী স্নায়ুপথে ধাপে ধাপে দ্রুত সুষুম্নাকান্ডে এবং মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। মস্তিষ্কে ওই স্নায়ু উদ্দীপনা—মানসিক উদ্দীপনায় পরিবর্তিত হয়।


এর ফলে বাহ্যবস্তু সম্বন্ধে আমাদের সংবেদন বা চেতনা জন্মে। যে সকল স্নায়ুপথে এই উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছায় তাহাকে সংবেদক স্নায়ু (সেনসরী নার্ভ অর্ অ্যাফারেন্ট নার্ভ ) বলে। আবার মস্তিষ্ক হতে বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ে ও স্নায়ুপথে যে উদ্দীপনা বা আদেশ পৌঁছায় তাদের চেষ্টীয় স্নায়ু (মোটর নার্ভ অর্ ইফারেন্ট নার্ভ) বলে।


মস্তিষ্ক স্নায়ুমণ্ডলীর কেন্দ্রস্থল। সেই স্থান থেকে যে আদেশ প্রেরিত হয় তা মাংসপেশি ও বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে চালিত করে।


স্নায়ুগুলি মূল মেরুদণ্ডে অবস্থিত বলে, মানুষের যৌবন ও জীবনীশক্তি মেরুদণ্ডের সবলতা ও নমনীয়তার উপর নির্ভর করে। মেরুদণ্ডে যদি ঠিকমত রক্ত চলাচল না হয়, তাহলে স্নায়ুগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে ও শরীর জরাগ্রস্ত হয়।


তাই আজ পৃথিবীর সব দেশের সকল লোকের চেষ্টা হচ্ছে—কি উপায়ে মেরুদণ্ডের মধ্যে প্রচুর রক্ত পাঠিয়ে মেরুদণ্ডকে সবল ও অধিক কর্মক্ষম করে জরা ও বার্ধক্যকে দূরে সরিয়ে রেখে অধিক দিন পর্যন্ত যৌবনকে বেঁধে রাখা যায়।


মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গতি ছয় প্রকার। ব্যায়াম দ্বারা একে সামনে, পিছনে, ডান ও বাঁ দিকে বাঁকানো যায় এবং ডান ও বাঁ দিকে মোচড় দেওয়া যায়।


পৃথিবীতে মেরুদণ্ডের যত রকম ব্যায়াম আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে, তাদের সাহায্যে উপরিউক্ত ছয় রকমভাবে বাঁকানো বা মোচড়ানো ছাড়া মেরুদণ্ডের আর অন্য কোন রকম সঞ্চালনের কল্পনা করা যায় না।


স্যান্ডো, মূলার ও ম্যাফ্যাডন প্রভৃতি পাশ্চাত্য ব্যায়ামবিদগণ মেরুদণ্ডের যত রকম ব্যায়াম পদ্ধতির কথা আলোচনা করেছেন, তাতে মেরুদণ্ডকে সামনে পিছনে ডানে ও বাঁয়ে বাঁকানোর কথাই বলেছেন।


কিন্তু ব্যায়াম দ্বারা সম্পূর্ণভাবে মেরুদণ্ডকে ডান দিকে ও বাঁদিকে মোচড় দেওয়া যে সম্ভব, তা তারা কোনোদিন কল্পনা করতে পারেননি। আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা মেরুদণ্ডের ব্যায়ামের গুরুত্ব বুঝতেন।


তাঁরা মেরুদণ্ডকে সামনে পিছনে ডাইনে বাঁয়ে বাঁকানো ছাড়া ডাইনে ও বাঁয়ে সম্পূর্ণভাবে মোচড় দেওয়ার জন্য অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসনপূর্ণমৎস্যেন্দ্রাসন প্রবর্তন করে বার্ধক্যকে জয় করবার আরও সহজ উপায় আবিষ্কার করে গেছেন।


শশাংগাসন, হলাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, পদহস্তাসনযোগমুদ্রা প্রভৃতি অভ্যাসে মেরুদণ্ডের সামনে বাঁকানোর ব্যায়াম হয়।


মৎস্যাসন, উস্ট্রাসন, ভুজংগাসন, শলভাসন, ধনুরাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, চক্রাসন প্রভৃতিতে পিছনে বাঁকানোর ব্যায়াম অভ্যাস সম্ভব হয়।


অর্ধচন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসনে ডান ও বাঁ দিকে বাঁকানোর ব্যায়াম সাধিত হয়। আর অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন পূর্ণমৎস্যেন্দ্রাসন মেরুদণ্ডকে ডান ও বাঁ দিকে মোচড় দিয়ে মেরুদণ্ডস্থ স্নায়ুমন্ডলীকে অধিক রক্তস্নাত করে ইহাদের সজীবতা ও নবীনতা বৃদ্ধি করে।


উপরে উল্লিখিত আসনগুলির মধ্যে যে কোন দুটি আসন—একটি মেরুদণ্ডকে সামনে বাঁকানোর একটি মেরুদণ্ডকে পিছনে বাঁকানোর আসনের সঙ্গে অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন নিয়মিত অভ্যাসে স্পন্ডিলাইটিস রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে না।