আমাদের মধ্যে কোষ্ঠবদ্ধতা এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, এই রোগ যতদিন না বেড়ে যায় এবং কষ্টদায়ক হয়, ততদিন আমরা একে গ্রাহ্যই করি না। অথচ এই রোগের দরুনই আমরা অন্য নানা রোগে ভুগে থাকি।


কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার নানা কারণ আছে (১) অখাদ্য গ্রহণ, (২) খাদ্য নির্বাচনে সতর্কতার অভাব, (৩) পেটের পেশীর দুর্বলতা, (৪) মেয়েদের বেলায় বিশেষ গ্রন্থি-বিকার ইত্যাদি। তাছাড়া (৫) মানসিক দুঃশ্চিন্তা বা অশান্তি কোষ্ঠকাঠিণ্যের
একটি বড় কারণ।

সহজপাচ্য ও আঁশবিহীন খাদ্য খেলে খাদ্যের সারাংশ গ্রহণের পর অন্ত্রের মধ্যে খাদ্যের অসার অংশ অল্পই অবশিষ্ট থাকে, ফলে কোষ্ঠবদ্ধতা দেখা দেয়। দুপুরে ও রাত্রে গলা ভাতসহ পরিমিত খাদ্য ও শাক-সবজি খেলে বিশেষ উপকার হয়।

যারা কম পানি পান করেন বা যাদের কোনো কারণে অধিক প্রস্রাব হয়, তাদের অন্ত্রে মল নিঃসরণের জন্য যতটুকু পানির প্রয়োজন হয়, তাও না থাকায় মল নিঃসরণ কষ্টকর হয়। কোষ্ঠবদ্ধ রোগীর প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন।

বেশি মোটা হওয়ার ফলে বা পেটের পেশীর অব্যবহারে পেটের পেশী দুর্বল হয়। আমরা যখন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করি, তখন বুক ও পেটের মাঝে অবস্থিত পর্দা মধ্যচ্ছদা পাকস্থলীর উপর যে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তার ফলে পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রকে অধিক সক্রিয় করে তোলায় সহজ ও স্বাভাবিকভাবে মল নিঃসরণ সম্ভব হয়।


পেটের পেশী দুর্বল হলে অন্ত্রের ওপর শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত মধ্যচ্ছদার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, ফলে কোষ্ঠবদ্ধতা হয়।

এই রোগ অনেক দিনের পুরাতন হলে তাড়াতাড়ি সারতে চায় না। যে সব রোগী অনেকদিন থেকে কোষ্ঠবদ্ধতায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের উচিত, রোজ রাত্রে শোবার আগে ৩/৪ চামচ্ ইসবগুলের ভূষি চিনিসহ পানিতে ভিজিয়ে পান করে শয়ন করা এবং সকালে উঠে হালকা গরম পানিতে এক চামচ লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করে কিছুক্ষণ পায়চারি করবার পর পায়খানায় যাওয়া।

এই সময় যারা উড্ডীয়ান নৌলি  অভ্যাস করেন তারা পায়চারির বদলে এই মুদ্রা দু'টি অভ্যাস করলে আরও দ্রুত ফল পাবেন।

ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম  থেকে  ১, ২, ৩, ৫ এবং ৮ নং ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

খালি হাতে ব্যায়াম শেষ করার পর ২/৩ মিনিট শবাসন করতে হবে। 

এরপর সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রামৎস্যাসনপদহস্তাসনঅর্ধচন্দ্রাসন এবং হলাসন অভ্যাস করতে হবে। 

সবশেষে পাঁচ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করুন। 

অন্যান্য উপকারিতা

থাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে। ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা হবে না কোনোদিন। হলেও সেরে যাবে।

যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।


যাদের প্লীহা বড় হয়েছে, যাদের হাঁপানি আছে তাদের জন্য উপকার হয়।


স্বপ্নদোষ ও শুক্রহীনতা প্রভৃতি নিরাময় হয়, যৌনগ্রন্থি সঞ্জীবিত হয়। পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


মেরুদণ্ড অধিকতর কর্মক্ষম হয়।


ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব মৎস্যাসনে দূর হয়।

পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে।


ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।


পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


রক্তাল্পতা দুর হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির এবং কিড্‌নির কাজ ভাল হয়।


সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।


পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য সারাতে অদ্বিতীয়।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের  বিশেষ উপকারী।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।