‘মরকণ্ড’ গোঁফদাড়ি না ওঠার সমাধান যোগব্যায়াম
বালকরা যখন কৈশোরে পদার্পণ করে, তখন তাদের দেহমনে স্বাভাবিকভাবেই একটা পরিবর্তন আসে। মুখে গোঁফ ও দাড়ি গজাতে শুরু করে, গলার স্বর একটু মোটা হয় এবং মনে যৌবনোচিত একটা চাঞ্চল্য আসে।
এর জন্যে দায়ী—–উপেন্দ্রগ্রন্থি (প্যারাথাইরয়েড্), মঙ্গল গ্রন্থি (থাইম্যাস্), শিবসতীগ্রন্থি (পিটুইটারি), বৃক্কের (কিড্নি) উপর অবস্থিত এড্রেনাল।
কৈশোরে যদি উপরোক্ত গ্রন্থিগুলো ঠিকমতো কাজ না করে, তা হলে ১৬/১৭ বছর বয়সে যখন একজন কিশোর যৌবনে পদার্পণ করে তখন তার মুখে গোঁফদাড়ির লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না এবং তার স্বাভাবিক দৈহিক গঠন ব্যাহত হয়।
যোগ চিকিৎসা
প্রথমে স্পট জগিং করতে হবে। তারপর নিজ পছন্দমতো ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন।
তারপর সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, শক্তিচালনী মুদ্রা, মূলবন্ধ মুদ্রা ও বন্ধত্রয় অভ্যাস করুন। এভাবে নিয়মিত ৩/৪ মাস ব্যায়াম করুন।
সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।
যে সমস্ত যুবকের উপরোক্ত গ্রন্থি ঠিকমত কাজ করে না, তাদের গোঁফ-দাড়ি উঠতে দেরী হয়। তারা যদি এভাবে ব্যায়াম করেন তাহলে তাদের গ্রন্থিগুলো সক্রিয় হওয়ার দরুন তাদের মুখে স্বাভাবিকভাবে গোঁফ-দাড়ি দেখা দেয় এবং তারা যৌবনোচিত স্বাস্থ্যর অধিকারী হয়।
অন্যান্য উপকারিতা
যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
কামজয়ী ও ঊধর্বরেতা (শুক্র ক্ষয় করে নাই এমন ব্যক্তি) হতে সাহায্য করে।
যৌন মিলনের ধারণা-শক্তি বৃদ্ধি পায়।
ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব মৎস্যাসনে দূর হয়।
বুকের খাঁচা বড় করে।
শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।
হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।
থাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলী শক্তিশালী হয়।
দেহের কৃষ্ণতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।
যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করে।
হাঁপানি সেরে যায়।
স্বপ্নদোষ ও শুক্রহীনতা প্রভৃতি নিরাময় হয়।
পুরুষের অণ্ডকোষ ও নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।
মেরুদণ্ড অধিকতর কর্মক্ষম হয়।
মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম বিশেষ প্রয়োজন।
মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।
সতর্কতা
যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।
সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
উপসংহার
এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন।
এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।
সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।
সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও জেনে রাখুন।
এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন।
যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
