অধিক মাত্রায় বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে পরিমিত ব্যায়ামের অভাব—এই রোগের অন্যতম একটি কারণ। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগী খাবার পর বুকে পেটে চাপ বোধ করেন।

এই সময় তাদের বমির ভাব থাকে এবং বমি করার পর বুকে ও পেটের চাপ একটু কম মনে হয়। এই অবস্থায় ক্ষুধা একেবারে কমে যায়, অরুচি দেখা দেয়।

পেটে অতিরিক্ত বায়ু হতে পারে। বদহজমের সঙ্গে যেসব ছেলে-মেয়েরা রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হয়, তাদের পেটে ব্যথা ও ঘা হতে পারে। ফলে অন্ত্র দুর্বল হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই রোগে সাধারণত মানুষের মৃত্যু হয় না বটে কিন্তু তাদের দেহের ক্ষয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগ প্রতিরোধ শক্তি ক্রমান্বয়ে কমে যায়। ফলে রোগী সহজেই নানা ব্যাধির কবলে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে।

সুতরাং এই রোগ প্রথম অবস্থায় যাতে বৃদ্ধি না পায় এবং দ্রুত নিরাময় হয়, তার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত।

যোগ চিকিৎসা

অনেকদিন ধরে আক্রান্ত দুর্বল রোগীরা সহজপাচ্য লঘু খাবার খাবেন এবং সকালে ও বিকালে মুক্তস্থানে ভ্রমণ প্রাণায়াম করলে সুফল লাভ করবেন।

রোগী দুপুরে ও রাতে সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বজ্রাসন অভ্যাস করলে সহজে হজম হয়। সকালে ও বিকালে শুকনো খই বা মুড়ি খেয়ে পানি খেলে উপকার হয়।

লঘু সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ও খালি হাতে ব্যায়ামসহ নিচে দেওয়া ৭টি আসন সকাল-বিকাল অভ্যাস করলে রোগ চিরতরে দুর হয়ে যায়। সেরে না যাওয়া পর্যন্ত করতে থাকুন।

ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম এর তালিকা থেকে ওয়ার্মআপের জন্য ১, ২, ৪, ৫, ৮ এবং ১১ নং ব্যায়াম করতে হবে । 

খালি হাতে ব্যায়াম শেষ করার পর ২/৩ মিনিট শবাসন করতে হবে। 

এরপর ভুজংগাসনমৎস্যাসনহলাসনশলভাসনঅগ্নিসারযোগমুদ্রা এবং বিপরীতকরণী মুদ্রা অভ্যাস করতে হবে। 

সবশেষে পাঁচ মিনিট শবাসন করে ব্যায়াম শেষ করতে হবে।

এছাড়া বদহজম ও গ্যাস্ট্রিক রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দুবেলা খাওয়ার পর ৪/৫ মিনিট বজ্রাসন অভ্যাস করা উচিত।


অন্যান্য উপকারিতা


মেরুদণ্ডের কাঠিন্য দুর করে একে নমনীয় করে এবং মেরুদণ্ডে অধিক রক্ত পাঠিয়ে স্নায়ুমণ্ডলীকে সতেজ করে। মেরুদণ্ডের অগ্রমুখী বক্রতা সেরে যায়।


কোমরে বাত হতে পারে না


হৃৎপিণ্ড সবল ও বুকের গঠন সুন্দর হয়।


যারা কুঁজো তাদের জন্য এই ব্যায়াম বিশেষ উপকারী।


হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।


পুরুষদের মরকণ্ড এবং মেয়েদের ঋতু রোগ ও শ্বেত প্রদরসহ স্ত্রীরোগ আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয় এবং জীবনীশক্তি জাগরিত হন।


ঘাড়ের কঠিনতা ও আড়ষ্টভাব দুর হয়।


পাঁজরের হাড় বাড়িয়ে বুকের খাঁচা বড় করে। বুকের গঠন স্বাভাবিক হয়।


শ্বাসনালী মোটা করে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করে।


হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।


থাইরয়েড্‌কে সবল ও কর্মক্ষম করে।


তলপেটের ও কোমরের মাংসপেশিগুলো সবল হওয়ায় ওই জায়গার স্থূলতা কমে।


সন্তান প্রসবের ৩ মাস পরে মায়েদের জন্য এই ব্যায়াম বিশেষ উপকারী। সন্তান প্রসবের পর অযথা শিথিল হওয়া পেটের পেশীর শিথিলতা দুর হয়।


কোষ্ঠবদ্ধতা, পেট ফাঁপা, অগ্নিমান্দ্য ও বহুমূত্র সারাতে অদ্বিতীয়।


মধ্যচ্ছদা অর্থাৎ বুক ও পেটের মাঝখানকার পর্দাটির ক্রিয়া ভাল হওয়ায় হৃদযন্ত্র ও হজমযন্ত্রের কাজ ভাল হয়।


কোমরের ব্যথা, সায়টিকার ব্যথা ও কটিবাত ইত্যাদি সেরে যায়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, খাবার পর পেটফাঁপা রোগ সারায়।


অল্পদিন অভ্যাসে মেয়েদের অনেকদিনের ঋতুকালীন মাজা ব্যথা আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয়।


ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় ও বদহজম দুর হয়। 


পেটের সব অসুখ সেরে যায়। পেটের মেদ কমে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


যৌন মিলনে অক্ষম ব্যক্তিদের সক্ষম হতে সাহায্য করে।


পেটে চর্বি জমতে পারে না। 


জানু ও পাছার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়। 


মুদ্রা হাঁপানি সারাতে সাহায্য করে।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।