আপনি কি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন? গর্ভধারণের জন্য আপনি নিজে কিছু করতে চান? তাহলে যোগব্যায়াম করুন। 



যোগব্যায়াম আপনাকে কেবল উর্বরতার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়তা করে। যারা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন তাদের জন্য যোগব্যায়াম ক্রমবর্ধমানভাবে সুপারিশ করা হচ্ছে।

বন্ধ্যাত্ব অনেক কারণে হতে পারে, যার মধ্যে একটি হলো আপনার দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুতির কারণে আপনি প্রতিদিনের চাপের মধ্য দিয়ে যান। 


আপনার বন্ধ্যাত্বের সমস্যা এতে যোগ করতে পারে এবং আপনার স্ট্রেসের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণ হিসাবে পরিচিত যা উর্বরতার সমস্যা হতে পারে।


যোগব্যায়াম কিভাবে সাহায্য করতে পারে?


আপনি যখন যোগব্যায়ামের কথা ভাবেন, প্রথমে যা মনে আসে তা হলো নমনীয়তা বিকাশ করা এবং আপনার শরীরকে টোন করা। 


কিন্তু বাস্তবে, যোগব্যায়ামের আরও বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আপনার উর্বরতা উন্নত করা। 


গবেষণায় দেখা গেছে যে যোগব্যায়াম এবং ধ্যান আপনাকে গর্ভধারণ করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু যোগব্যায়াম ভঙ্গি যা প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। 


নিয়মিত এই সহজ যোগাসনগুলি সম্পাদন করে, আপনি গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা উন্নত করতে পারেন। 


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৬, নং৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫  ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 

তারপর পশ্চিমোত্তানাসন, বদ্ধ কোণাসন, বিপরীতকরণী মুদ্রা, পদহস্তাসন, অর্ধকূর্মাসন, শীর্ষাসন, ভুজংগাসন, সেতুবন্ধ আসন, সর্বাঙ্গাসন বা সর্বাঙ্গ সাধন মুদ্রাকপালভাতি এবং ভ্রামরী অভ্যাস করুন। 

সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।


নতুনদের জন্য


প্রাথমিকভাবে, আপনি সপ্তাহে দু'বার বা তিনবার উর্বরতা যোগব্যায়াম করতে পারেন, এবং ধীরে ধীরে এটিকে সপ্তাহে ৫ বার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা উচিত। 


শুরুতে কঠিন মনে হতে পারে। তবে, ধৈর্য্য এবং অনুশীলনের সাথে অধ্যবসায় করার জন্য আপনার মন তৈরি করুন। ফলাফল আপনি দেখতে খুব শীঘ্রই। আপনি উৎসাহিত হবেন! 


আপনার কাছে কঠিন মনে হয় এমন কোনো আসন দিয়ে নিজেকে চাপ দেবেন না। যাইহোক, সময়ের সাথে সাথে, আপনার নমনীয়তা এবং ভারসাম্য যথেষ্ট উন্নত হবে।


একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন এবং শরীরের ফলে একটি সুস্থ শরীরের জন্য হরমোনের সুষম নিঃসরণ ঘটে। আপনি চিকিৎসা শুরু করার আগে অন্তত ৩-৪ মাস যোগব্যায়াম করার চেষ্টা করবেন। 


এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে যোগব্যায়াম একমাত্র প্রতিকার নয় কিন্তু এমন কিছু যা আপনার নিয়মিত ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সাথে চেষ্টা করা যেতে পারে। 


এছাড়াও, যোগব্যায়াম তাৎক্ষণিক ফলাফল নাও দিতে পারে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা যায়। তাই নিরাপদ গর্ভাবস্থার জন্য এই স্বাস্থ্যকর এবং বিকল্প থেরাপির অনুশীলন শুরু করুন।


অন্যান্য উপকারিতা


মূত্রগ্রন্থি, পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের কাজ ভাল হয়। 

সায়টিকা, অর্শ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ আরোগ্য হয়। 

আমাশয় সেরে যায়।  

পেট ও বস্তি প্রদেশের সঞ্চিত চর্বি কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুশ্রী করে।

পিঠ, নিতম্ব এবং উরুর পেশীগুলির ব্যথা কমাতে, নমনীয়তাকে উৎসাহিত করতে এবং গতির পরিসর বাড়াতে সহায়তা করে।

শারীরিক এবং মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রশান্তিদায়ক, শিথিল প্রভাব ফেলে এবং শক্তির মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। 

মননশীলতা উন্নত করে। মানসিক চাপ কমায়। 

পেলভিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। আপনার পেলভিক ফ্লোর পেশীগুলিতে সঞ্চালন বাড়ায়।

আপনার নিম্ন পিঠ, নিতম্ব এবং অভ্যন্তরীণ উরুতে উত্তেজনা এবং নিবিড়তা উপশম করতে সাহায্য করে, যা নমনীয়তা বাড়ায় এবং শিথিলতা প্রচার করে।

মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং অনাক্রম্যতা এবং মানসিক সুস্থতার উন্নতি করার সময় ব্যথার প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে পারে। 

জরা ও ব্যাধি দূরীভূত হয়।

পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। হজম শক্তি বাড়ে।

রক্তাল্পতা রোগীর জন্য উপকারী।


যকৃত ও পেটের অসুখ সারে। আমাশয় ভালো হয়।


মস্তিষ্ক পরিচালনার শক্তি বৃদ্ধি পায়।


সাইনাস, বহুমূত্র, অর্শ, অজীর্ণ ও শুক্রতারল্য প্রভৃতি রোগ সারে।


মেরুদণ্ডের কাঠিন্য দূর করে একে নমনীয় করে এবং মেরুদণ্ডে অধিক রক্ত পাঠিয়ে স্নায়ুমণ্ডলীকে সতেজ করে।


কোমরে বাত হতে পারে না


হৃৎপিণ্ড সবল ও বুকের গঠন সুন্দর হয়।


মেয়েদের ঋতু রোগ ও শ্বেত প্রদরাদি স্ত্রীরোগ আরোগ্য হয়।


এডরেনাল গ্রন্থির কাজ ভাল হয় এবং কুলকুণ্ডলিনী শক্তি জাগরিত হন।


পিঠের পেশী মজবুত করে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে

বুক, ঘাড় এবং মেরুদণ্ড প্রসারিত করে। 

মস্তিষ্ককে শান্ত করে, উদ্বেগ, চাপ এবং বিষণ্নতা কমায়। 

ফুসফুসকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং থাইরয়েডের সমস্যা কমায়।

মেনোপজ এবং মাসিক ব্যথার উপসর্গ উপশম করে।  

হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, অস্টিওপোরোসিস এবং সাইনোসাইটিস নিরাময় হয়। 

থাইরয়েডকে সঞ্জীবিত এবং স্নায়ুমন্ডলীকে রক্তে গ্লাবিত ও ধৌত করে।

দেহের কৃশতা বা স্থূলতা কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিকভাবে সুগঠিত হতে সহায়তা করে।


প্লীহা-যক্রতের কাজ ভালো হয়।


হাঁপানি সেরে যায়।


নারীদের গর্ভাশয়ের দুর্বলতা সহজে আরোগ্য হয়।


কফ্ দোষ বিনষ্ট হয়, কপালে সর্দি জমতে পারে না।


সাইনাস্ থাকলে দ্রুত সেরে যায় এবং সাইনাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।


হৃদযন্ত্র সবল হয়।


পেটের মেদ কমায়।


শ্রবণেন্দ্রিয়ের কাজ ভাল হয়।


গলার স্বর মিষ্ট হয় এবং গলায় শ্লেষ্মা জমে না।


রীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।